প্রতিদিনের অর্থনীতি | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। জাতীয় সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখানো হয়নি।
সংসদে উপস্থাপিত তালিকা অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো-
১. এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড
২. এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড
৩. সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
৪. এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড
৫. সোনালী ট্রেডার্স
৬. বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড
৭. গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড
৮. কেমন ইস্পাত লিমিটেড
৯. এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড
১০. ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
১১. কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড
১২. দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড
১৩. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
১৪. পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
১৫. প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড
১৬. কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড
১৭. মুরাদ এন্টারপ্রাইজ
১৮. সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড
১৯. বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড
২০. রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, উচ্চ হারে শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বৈঠক করে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং সমাধানে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া প্রতিটি ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ খেলাপিদের ঋণ আদায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা, উচ্চ খেলাপি ঋণযুক্ত ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন, ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ব্যাংকের আইন বিভাগ শক্তিশালীকরণ এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ঋণ আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং জামানত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া জোরদার করার মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
Posted ৫:৩৬ পিএম | সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity