প্রতিদিনের অর্থনীতি | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
প্রবাসী আয়ের টানা ঊর্ধ্বগতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফিরছে স্বস্তি। মার্চে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং এপ্রিলেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের রিজার্ভ আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
এক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক নিচের দিকে। ১৬ মার্চ মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪ সালের আগস্টে নতুন গভর্নরের দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমানো, হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধে পদক্ষেপ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রিজার্ভে।
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, ফলে ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম, অর্থপাচার ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপে তা দ্রুত কমে যায়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে, যা আইএমএফের হিসাবে ছিল আরও কম।
এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়ে ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু, আমদানি বিধিনিষেধ শিথিল এবং প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি ঘুরতে শুরু করে।
চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। আর মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার—একক মাস হিসেবে যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে—যা ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
এই প্রবাহের কারণে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Posted ৯:০০ এএম | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity