প্রতিদিনের অর্থনীতি ডেস্ক | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ইরানের ঘোষণার পর একদিনেই তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এই বড় পতনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে সাময়িক স্বস্তি। ইরান জানিয়েছে, লেবাননের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।
এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ দশমিক ১২ ডলার বা ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ডের তেলের দাম ১১ দশমিক ৪০ ডলার বা ১২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রণালি খোলা রাখার ঘোষণাই নয়, কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর এবং লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক একটি বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, ইরানের এই ঘোষণায় উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাস্তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল কতটা বাড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে এবং দেশটি দীর্ঘ সময়ের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে এলে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।
Posted ১০:১০ পিএম | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity