নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
ব্যাংক খাতে ঋণসীমা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে একটি ব্যাংক তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। আগে এ সীমা ছিল ১৫ শতাংশ। তবে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে গেলে ব্যাংকের বৃহৎ ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যাবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, একক গ্রাহকের ঋণসীমা সংক্রান্ত আগের ১৫ শতাংশ সীমা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো বড় শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অধিক ঋণ সুবিধা দিতে পারবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম হলে মোট ঋণ ও বিনিয়োগের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দিতে পারবে। তবে শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলে সেই সীমা কমে দাঁড়াবে ৩০ শতাংশে। এই সুবিধা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এছাড়া কোনো অবস্থাতেই বৃহৎ ঋণের মোট পরিমাণ ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগে এ সীমা ছিল মূলধনের ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর আমদানি সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে এ শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে নিয়োজিত ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ কমাতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এ শিথিলতা স্থায়ী নয়। ধাপে ধাপে আগের কাঠামোয় ফিরে যাওয়া হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের কনভার্সন ফ্যাক্টর ২৫ শতাংশ থাকবে। পরে তা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের শেষে আবার ৫০ শতাংশে নেওয়া হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হবে।
Posted ১২:১২ পিএম | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity