নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন ও জবাবদিহি বাড়াতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন প্রস্তাবিত কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বা সুশাসন বিধিমালায় পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে মোট পরিচালকের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ হার এক-পঞ্চমাংশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। খসড়ার ওপর দুই সপ্তাহের মধ্যে অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।
খসড়া অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন পাঁচ এবং সর্বোচ্চ ২০ জন হতে পারবে। তবে এসএমই প্ল্যাটফর্মভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা হবে ১০।
প্রতিটি কোম্পানির পর্ষদে অন্তত একজন নারী পরিচালক রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া অন্য উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এছাড়া স্বতন্ত্র ও নির্বাহী পরিচালক বাদে প্রতিটি পরিচালকের ব্যক্তিগতভাবে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, পর্ষদে মোট পরিচালকের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ অথবা ন্যূনতম তিনজন- যেটি বেশি-স্বতন্ত্র পরিচালক থাকতে হবে।
বিএসইসি বলছে, সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় স্বতন্ত্র পরিচালকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে ব্যবসা, কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা, আইন বা একাডেমিক ক্ষেত্রে অন্তত ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এ অভিজ্ঞতার শর্ত হবে ন্যূনতম ৮ বছর।
কোনো উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা পরিবারের সদস্য কিংবা গত তিন বছরের মধ্যে কোম্পানির নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তি স্বতন্ত্র পরিচালক হতে পারবেন না।
একজন স্বতন্ত্র পরিচালক তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং সর্বোচ্চ আরও এক মেয়াদে পুনর্নিয়োগ পেতে পারবেন। টানা দুই মেয়াদ শেষে পুনর্নিয়োগের আগে তিন বছরের বিরতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্পোরেট সুশাসন জোরদারে প্রতিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অন্তত তিনটি সাব-কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অডিট কমিটি আর্থিক প্রতিবেদন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ তদারকি করবে। এতে অন্তত তিনজন নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক থাকতে হবে এবং একজন স্বতন্ত্র পরিচালক বাধ্যতামূলক।
নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি (এনআরসি) পরিচালকদের যোগ্যতা ও পারিশ্রমিক নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এ কমিটির চেয়ারম্যান হতে হবে একজন স্বতন্ত্র পরিচালক।
রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি (আরএমসি) কোম্পানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি ও তদারকি করবে। তবে প্রয়োজনে অডিট কমিটি এনআরসি ও আরএমসির দায়িত্বও পালন করতে পারবে।
খসড়ায় কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতে চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ আলাদা রাখার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি কোম্পানিকে পৃথক কোম্পানি সচিব, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) এবং হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স নিয়োগ দিতে হবে। এসব কর্মকর্তা একই সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে একই পদে থাকতে পারবেন না।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে। আর তিন বছর দাবিহীন অবস্থায় থাকা লভ্যাংশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-এ স্থানান্তর করতে হবে।
এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রতি বছর চার্টার্ড সেক্রেটারি ফার্ম থেকে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট নিতে হবে।
খসড়ায় পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশেও কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রতিবেদন বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশের সুপারিশ করা হয়েছে।
Posted ৯:১৭ পিএম | শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity