নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
আসন্ন জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আদায়ের পরিধি ও করদাতা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে বড় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এতদিন রাজস্ব ব্যবস্থার বাইরে থাকা খাত ও ব্যক্তিদের এবার করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের হার এখনো অনেক কম, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় এনে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে একই শ্রেণির করদাতাদের ওপরই চাপ বাড়ানো হয়েছে। এবার সেই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করদাতাদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেকেই হয়তো ন্যূনতম আয়কর দিয়েও কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং সরকার এ বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, করদাতার সংখ্যা যত বাড়বে, ততই এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে।
বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে উন্নয়নের সুফল সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সরাসরি জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে। তাই প্রবৃদ্ধির বড় ঘোষণা না দিলেও বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেটের সামগ্রিক দর্শন তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও টেকসই সমৃদ্ধির কৌশল সামনে রেখে এবারের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
এবারের বাজেটের মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সমৃদ্ধি, পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন কৌশলকে সামনে রেখে এবারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিগত সময়ে কিছু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্নীতি কিংবা অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেসব প্রকল্প এসেছে, সেগুলো আইএমইডি (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আইডেন্টিফাই বা চিহ্নিত করবে। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার প্রতিফলন আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্রে দেখা যাবে।
Posted ৫:৫৭ পিএম | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity