নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎসে পরিণত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় ছিল। পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপাদনকারী এ শিল্পকে আধুনিক বর্জ্য শোধন সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় স্থানান্তর করা জরুরি ছিল। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনার ঘাটতি ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে খাতটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। এর ফলে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম থেকে ছিটকে পড়েছে।
তিনি বলেন, চামড়া শিল্পকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত মান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিইটিপির কার্যক্রমে ইতালির প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সিইটিপির দৈনিক বর্জ্য শোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। কিন্তু কোরবানির মৌসুমসহ উৎপাদনের ব্যস্ত সময়ে ট্যানারি শিল্পনগরীতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। ফলে বিদ্যমান সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারকে তার পরিকল্পিত সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং দ্বিতীয়ত, ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। একই সঙ্গে আর্থিক সংকটে থাকা এবং কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়া ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের চামড়া খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। এতে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী শিল্পনগরীর সদর ও বিভিন্ন বে-ট্যানারি কারখানা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কারখানা মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ৬:৩৩ পিএম | শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity