নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও সফল উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক মত দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। এর ফলে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানায়, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।
সিডিপি তাদের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি প্রধান সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে এবং নিকট কিংবা মধ্যমেয়াদে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন উত্তরণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত সময় বাংলাদেশকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সহায়তা কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে মত দিয়েছে সিডিপি।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়। পরে গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।
সিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, বর্ধিত প্রস্তুতিকাল দেশের জন্য প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বাজার সুবিধা হারানোর প্রভাব মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে কমিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, অতিরিক্ত সময় যেন সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করার কারণ না হয়। বিশেষ করে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
সিডিপির মতে, এই অতিরিক্ত সময় মূলত সংস্কার ত্বরান্বিত করার একটি সুযোগ, যা বাংলাদেশের টেকসই ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ সরকারও সিডিপির ইতিবাচক মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও চলমান সংস্কারের মাধ্যমে দেশ একটি শক্তিশালী ও টেকসই উত্তরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
Posted ৯:১৯ এএম | বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity