শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

অপ্রচলিত রপ্তানি খাতের বিকাশে কম সুদে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

অপ্রচলিত রপ্তানি খাতের বিকাশে কম সুদে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
Share

দেশের রপ্তানি খাতকে তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে আরও বহুমুখী করতে ৩ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোকে স্বল্পসুদে অর্থায়ন দেওয়া হবে।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের অতিরিক্ত প্রাধান্য দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে। সেই ঝুঁকি কমিয়ে নতুন নতুন রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে এ তহবিল গঠন করা হবে এবং এটি ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।

এ অর্থায়নের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর। এর মধ্যে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা রাখা হয়েছে। ঋণের সুদ কমতি স্থিতি বা রিডিউসিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ স্কিমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রপ্তানির ভিত্তি সম্প্রসারণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন। বিশেষ করে অপ্রচলিত রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ ও ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পগুলো এ সুবিধার আওতায় আসবে। স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি পাট ও চামড়া শিল্পকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তবে খেলাপি ঋণ রয়েছে কিংবা রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে বকেয়া আছে—এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে না। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের ঋণ অবলোপনের ইতিহাস রয়েছে, তারাও স্কিমের বাইরে থাকবে।

স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকগুলোও শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে।

পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে প্রতিটি ঋণ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অর্থায়নকৃত প্রকল্পে ন্যূনতম ৭০:৩০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাত বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি তহবিলের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিল ব্যবহারের বিষয়টি তদারকি করবে।

মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তহবিলের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে। এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি কেটে নেওয়া হবে।

এছাড়া কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে এককালীন কর্তনের মাধ্যমে বকেয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ আদায় করতে পারবে।

১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (সংশোধিত ২০২৩) এর ৪৫ ধারার আওতায় চালু হওয়া এ স্কিম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

 

/এসআর
Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ৯:৪৮ এএম | সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com