নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বৈশ্বিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে অ্যামাজন, আলিবাবা, শপিফাইসহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশি পণ্য তালিকাভুক্ত ও প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে নতুন সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, রপ্তানিকারকেরা এখন সরাসরি বৈশ্বিক ভোক্তাদের কাছে তাদের পণ্য পৌঁছাতে ব্যবসা-থেকে-ভোক্তা (বি-টু-সি) ই-কমার্স মডেলে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষুদ্রমূল্যের রপ্তানি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পণ্য সিএফআর শর্তে রপ্তানি করা যাবে। এর ফলে ছোট ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে।
এছাড়া, ১ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট পারমিট বা ইএক্সপি ফর্ম দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে পুরো রপ্তানি মূল্য আগেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিপিং ডকুমেন্ট বিদেশি ক্রেতার নামে ইস্যু করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, পণ্যের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ বা রিটার্নের ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের রিফান্ড রপ্তানিকারকের এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব থেকে অথবা পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে স্থানীয় টাকার (টাকা হিসাব) মাধ্যমেও নিষ্পত্তি করা যাবে।
অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, রেজিস্ট্রেশন, সদস্যপদ ও অন্যান্য সেবামূলক ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা বৈশ্বিক ই-কমার্স বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবেন। এতে আন্তঃসীমান্ত অনলাইন বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং সরাসরি বিদেশি ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এ নীতিমালা কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রচলিত বি-টু-বি মডেল থেকে বেরিয়ে বি-টু-সি ও হাইব্রিড ই-কমার্স মডেলে আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারবেন, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
Posted ৬:০৪ পিএম | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity