শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

হত্যা–নির্যাতনের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁনের মৃত্যুদণ্ড

  |   সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট

হত্যা–নির্যাতনের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁনের মৃত্যুদণ্ড
Share

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্যানেলে আরও ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। প্রায় দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট রায় পড়ার পর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ঘোষণা করা হয়।

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামাল বর্তমানে পলাতক। তবে গ্রেপ্তারের পর প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে থাকা মামুনকে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। মাথা নিচু করে তিনি হাজতখানায় প্রবেশ করেন।

মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় মামুনের শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয় প্রসিকিউশন। অপরদিকে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয় যুক্তিতর্কে।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বহুস্তর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন, বিজিবি থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী পর্যন্ত মোতায়েন রয়েছে। দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই যান চলাচল বন্ধ এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া

এই মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়—
১) উসকানি
২) মারণাস্ত্র ব্যবহার
৩) আবু সাঈদ হত্যা
৪) চানখারপুলে হত্যা
৫) আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো

৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগনামায় তথ্যসূত্র রয়েছে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা–দালিলিক প্রমাণ ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষ্য দিয়েছেন ৮৪ জন। গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।

২৮ কার্যদিবসে সাক্ষ্য–জেরা শেষ হয় এবং ৯ কার্যদিন ধরে চলে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক। গত ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি তুলে ধরে। মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেওয়া হলেও তার পক্ষ থেকে খালাস দাবি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

 

প্রতিদিনের অর্থনীতি/এসআর
Facebook Comments Box
বিষয় :
Share
advertisement

Posted ৩:৫৩ পিএম | সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com