
নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 326 বার পঠিত

আজ মহিমান্বিত রজনী পবিত্র শবে মেরাজ। এই রাতে সীমা ভেঙে অসীমের পথে যাত্রা করেন মানবতার শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে ঊর্ধ্বাকাশ পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান সান্নিধ্যের চূড়ান্ত স্তরে যেখানে মানববুদ্ধি থেমে যায়, আর ঈমান হয়ে ওঠে একমাত্র সম্বল।
মেরাজ শব্দের অর্থ ঊর্ধ্বগমন।লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রজনী উপমহাদেশে ‘শবে মেরাজ’ নামে অধিক পরিচিত। এই পবিত্র রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে অলৌকিকভাবে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন এবং আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য লাভ করেন।
ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে সংঘটিত হয় এই মহিমান্বিত ঘটনা। আল্লাহর বিশেষ ইচ্ছা ও কুদরতে মহানবী (সা.) মেরাজে গমন করেন। সে রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) শুয়ে ছিলেন চোখে ছিল তন্দ্রার ভাব, তবে হৃদয় ও আত্মা ছিল সম্পূর্ণ জাগ্রত। এমন সময় আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাঈল (আ.) আগমন করেন।
জিবরাঈল (আ.) মহানবীকে (সা.) নিয়ে যান জমজম কূপের কাছে। সেখানে একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হয়, যা ছিল ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ এবং তাতে ছিল জমজমের পানি। এরপর নবীজির (সা.) বক্ষ মোবারক বিদীর্ণ করে তাঁর পবিত্র হৃদয় বের করে জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করা হয় এবং যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করা হয়। তারপর ঈমান ও হিকমতে পূর্ণ করে দেওয়া হয় তাঁর কলব।
এরপর মহানবীকে (সা.) বহনের জন্য আনা হয় বিশেষ বাহন ‘বুরাক’। এটি গাধার চেয়ে বড় এবং ঘোড়ার চেয়ে ছোট, সাদা রঙের এক অতিশয় দ্রুতগামী বাহন—যার প্রতিটি পদক্ষেপ পড়ত দৃষ্টির শেষ সীমায়।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জিবরাঈল (আ.) ও মিকাইলের (আ.) সঙ্গে বুরাকের মাধ্যমে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি প্রথম আসমান অতিক্রম করে ধারাবাহিকভাবে সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেন। এরপর ‘রফরফ’ বাহনে একাকী আরশে আজিমে পৌঁছে মহান রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করেন। এ সময় তিনি জান্নাত ও জাহান্নামের দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করেন এবং পরে আবার পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন।
এই মহান ও অলৌকিক ঘটনার কারণেই শবে মেরাজ মুসলমানদের কাছে এক অতুলনীয় মর্যাদা ও ফজিলতের রাত। এ রাতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ আদায়, জিকির-আজকার, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।
শবে মেরাজ আমাদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং ঈমানি চেতনা জাগ্রত করার এক অনন্য সুযোগ।

Posted ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


