
| মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 211 বার পঠিত

৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার সূর্যাস্তের পর থেকেই শুরু হবে পবিত্র শবে বরাত। মুসলিমদের একটি বড় অংশের কাছে এ রাত ক্ষমা প্রার্থনা, নাজাত লাভ এবং আত্মশুদ্ধির এক তাৎপর্যপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। এ উপলক্ষে বহু মানুষ নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় রত থাকেন।
তবে শবে বরাতের আমল ও পালন নিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মতভিন্নতা রয়েছে। এক পক্ষ এ রাতকে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গুরুত্ব দিলেও, অন্য পক্ষের মতে কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় এ রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ ইবাদত পালন করা বিদআতের শামিল।
ইবনে মাজাহ ও বাইহাকি শরিফে বর্ণিত একটি দুর্বল হাদিসে মধ্য শাবানের রাতে ইবাদত এবং পরদিন রোজা রাখার কথা পাওয়া যায়। তবে সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বান্দাদের দোয়া কবুলের আহ্বান জানান, যা কোনো নির্দিষ্ট রাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
উপমহাদেশের বহু আলেমের অভিমত হলো, শবে বরাত বা লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান আত্মসমালোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার একটি উপলক্ষ হতে পারে, তবে এ রাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতকে ফরজ বা সুন্নাত হিসেবে প্রমাণ করা যায় না। অন্যদিকে যারা এ রাতের পক্ষে, তারা মনে করেন নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত বিশেষভাবে পালিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোতে এর তেমন প্রচলন নেই। ইতিহাসবিদদের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের প্রায় চার শতক পর, হিজরি ৪৪৮ সালে ফিলিস্তিনের নাবলুস অঞ্চল থেকে শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ ইবাদতের চর্চা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে উপমহাদেশে বিস্তৃতি লাভ করে।
এদিকে শবে বরাত উপলক্ষে যথাযথ ধর্মীয় পরিবেশে প্রস্তুতি নিয়েছে মুসলিম সমাজের একটি অংশ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও জিকিরের আয়োজন করা হয়েছে। রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচার করা হবে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আগামীকাল সরকারি ছুটি থাকায় আজ সংবাদপত্রের অফিস বন্ধ থাকবে এবং পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, শবে বরাত আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ রাতকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান তিনি।

Posted ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


