
| সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 183 বার পঠিত

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সংক্রান্ত চূড়ান্ত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ২২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অনুমোদনের মূল লক্ষ্য হলো রাজধানীর সরকারি কলেজগুলোর জন্য একটি অভিন্ন একাডেমিক কাঠামো গড়ে তোলা, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ—এই সাতটি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত কলেজ হিসেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে পরিচালিত হবে। তবে কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, অবকাঠামো এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা অপরিবর্তিত থাকবে।
অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামোর বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেটের মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, পরীক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
একাডেমিক কাঠামোর দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনভিত্তিক পৃথক স্কুল থাকবে। প্রতিটি স্কুলের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে হেড অব স্কুল। সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত অভিন্ন সময়সূচি ও মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
ভর্তি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস অথবা সংযুক্ত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষকদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও স্বয়ংসম্পূর্ণ স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী ব্যবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

Posted ১:১৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


