নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি ও সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধিমালা সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার ফলে রপ্তানি আয়ের অর্থ দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়তা মিলবে।
বুধবার (২২ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফ্রিল্যান্সারদের সেবা রপ্তানির আয় দেশে আনতে প্রচলিত রপ্তানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এর পরিবর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, ইনভয়েস, চুক্তিপত্র বা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সেবা রপ্তানির প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করবে ব্যাংকগুলো। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কর্মরতদের অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো এখন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেশে আসা রপ্তানি আয় জমা করতে পারবে। এছাড়া অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধের সুবিধা দিতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় যথাসময়ে দেশে ফিরিয়ে আনা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য দ্বৈত মুদ্রার (ডুয়াল কারেন্সি) কার্ড ইস্যুর সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ব্যবহার করে রপ্তানি আয়ের অর্থ গ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখার সুযোগ পাবেন।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে সেবা রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বৃদ্ধি, লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Posted ২:২৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity