
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 916 বার পঠিত

বীমা খাতে দীর্ঘদিনের অ্যাকচুয়ারি সংকট দূরীকরণ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এর অংশ হিসেবে গঠন করা হবে অ্যাকচুয়ারিয়াল ইনস্টিটিউট, অ্যাকচুয়ারিয়াল বোর্ড অব স্ট্যান্ডার্ড সেটিং এবং অ্যাকচুয়ারিয়াল কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে ‘অ্যাকচুয়ারিয়াল অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে আয়োজিত ‘বীমা শিল্পে তরুণদের কর্মসংস্থান: অ্যাকচুয়ারি পেশার বিকাশ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানান আইডিআরএর চেয়ারম্যান ড. এম. আসলাম আলম।
তিনি বলেন, “বীমা খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য অ্যাকচুয়ারি পেশাজীবীদের বিকল্প নেই। এ পেশা শুধু বীমা নয়, পুরো আর্থিক খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শক্ত ভিত্তি দেয়।”
আইডিআরএর চেয়ারম্যান আরো জানান, নতুন কাঠামোর আওতায় গঠিত তিনটি প্রতিষ্ঠান অ্যাকচুয়ারি পেশার মানোন্নয়ন, দক্ষতা বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। খসড়া অর্ডিন্যান্সে অ্যাকচুয়ারি শিক্ষা, মানদণ্ড নির্ধারণ ও পেশাগত আচরণবিধি সংক্রান্ত নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাকচুয়ারি পেশা এমন একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্র যেখানে গণিত, পরিসংখ্যান ও অর্থনীতির মডেল ব্যবহার করে ভবিষ্যতের আর্থিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা হয়। এটি বীমা, পেনশন তহবিল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। উন্নত বিশ্বে অ্যাকচুয়ারি ডিগ্রিকে উচ্চআয়সম্পন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা হিসেবে দেখা হয়।
সেমিনারে আইডিআরএর সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মুখ্য আলোচক ছিলেন অ্যাকচুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকচুয়ারি আফরিন হক, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মো. ইমাম শাহীন এবং পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি. এম. ইউসুফ আলী।
বর্তমানে পুরো বীমা খাতে মাত্র চার থেকে পাঁচজন অ্যাকচুয়ারি কাজ করছেন, যার মধ্যে কেবল দুইজন দেশেই অবস্থান করছেন।

মুখ্য আলোচক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন বলেন, “অ্যাকচুয়ারি ছাড়া বীমা শিল্প টেকসই হতে পারে না। অথচ অনেক কোম্পানি এখনো অনুমাননির্ভরভাবে পণ্য তৈরি করছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “আগেও দেশে অ্যাকচুয়ারি তৈরির কিছু উদ্যোগ হয়েছিল, কিন্তু তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকেই বিদেশে চলে গেছেন। এবার আইডিআরএর উদ্যোগ সফল হলে নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণ এই পেশায় যুক্ত হতে পারবে।”
দেশে কর্মরত একমাত্র তরুণ অ্যাকচুয়ারি আফরিন হক বলেন, “স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে অ্যাকচুয়ারি পেশা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বাবা-মায়েরা এখনও এই পেশা সম্পর্কে খুব একটা জানেন না, ফলে তরুণরা আগ্রহ হারায়।”
বর্তমান বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী, জীবনবীমা খাতে অ্যাকচুয়ারির নিয়োগ বাধ্যতামূলক হলেও সাধারণ বীমা খাতে তা নয়। এ বিষয়ে ড. সোহরাব উদ্দীন বলেন, “নন-লাইফ খাতেও অ্যাকচুয়ারি নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা উচিত, কারণ এটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রিমিয়াম নির্ধারণ ও পণ্য নকশায় অপরিহার্য।”
আইডিআরএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব উদ্যোগে তিনজন ‘অ্যাকচুয়ারি ট্রেইনি অফিসার’ তৈরির একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা তাদের পূর্ণাঙ্গ অ্যাকচুয়ারি হতে সহায়তা করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইডিআরএর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাকচুয়ারি পেশার বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এতে বীমা শিল্পে ঝুঁকি মূল্যায়ন, পণ্য উদ্ভাবন ও আর্থিক স্থিতিশীলতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

Posted ১:৩৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


