শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

  |   বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   222 বার পঠিত

শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের এই দিন ধার্য করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলার অপর আসামি হলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।

গত ২৩ অক্টোবর এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

সমাপনী দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন। তারা শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

এর জবাবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাদের খালাস চেয়ে বক্তব্য দেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে বিশেষ সুযোগে বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি দেয়।

চলতি বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে। মামলায় মোট ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয়।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪,০৫৭ পৃষ্ঠা এবং শহীদের তালিকার বিবরণ রয়েছে ২,৭২৪ পৃষ্ঠায়।

মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫৪ জন সাক্ষী দেন। এরপর প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম টানা পাঁচ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন, যা গত ১৬ অক্টোবর শেষ হয়।

যুক্তিতর্কে তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে গুম, খুন ও হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দেন এবং শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চান।

একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের শাস্তির বিষয়টি তিনি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেন।

অপরদিকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন টানা তিন দিন যুক্তিতর্ক তুলে ২২ অক্টোবর তার বক্তব্য শেষ করেন।

একই দিনে রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ বক্তব্য দেন। তিনি আদালতকে বলেন, তার মক্কেল সত্য তথ্য দিয়ে আদালতকে সহযোগিতা করেছেন।

জায়েদ বিন আমজাদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবনে কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা ২৭ জনের মধ্যে একজন ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি (মামুন) গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে অবগত ছিলেন। নিজ বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ দমনে আইজিপি হিসেবে তার নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা ছিল বলেও স্বীকার করেছেন।”

আইনজীবী বলেন, এ জন্য তার মক্কেল গণঅভ্যুত্থানে আহত, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং মামলা থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছেন।

 

প্রতিদিনের অর্থনীতি/আরটি
Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:১১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com