
| শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 928 বার পঠিত

দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে প্রথমবারের মতো আংশিক ঋণ অবলোপনের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জারি করা নতুন নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সার্কুলারটি অনুমোদন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব মন্দ ও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণের পুরোটা আদায় করা সম্ভব নয়, সে ঋণের জামানতবিহীন ও আদায়-অযোগ্য অংশ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে। এতে করে ব্যাংকের স্থিতিপত্রে অযথা ফুলে থাকা অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ কমবে এবং প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক প্রতিফলন পাওয়া যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, অনাদায়ী ঋণের একটি বড় অংশ হিসাবপত্রে থেকে যাওয়ায় ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বাস্তব চিত্র বিকৃত হচ্ছিল। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো অবলোপনযোগ্য অংশ আলাদা করে দেখাতে পারবে এবং বাকি আদায়যোগ্য অংশ উদ্ধারে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে পারবে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথমে সুদের অংশ অবলোপন করতে হবে এবং অনারোপিত সুদ আলাদা হিসেবে হিসাবায়ন করতে হবে। প্রয়োজন হলে জামানতের বাজারমূল্য পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে। গ্রাহকের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ আগে অবলোপন করা অংশে সমন্বয় হবে। যখন সেই অংশের পুরোটা পরিশোধ হয়ে যাবে, তখন বাকি অর্থ স্থিতিপত্রে থাকা বকেয়া ঋণ সমন্বয়ে ব্যবহার করা হবে।
গ্রাহকের মোট বকেয়া নির্ধারণের সময় ব্যাংককে তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে— স্থিতিপত্রে প্রদর্শিত বকেয়া ঋণ, অনারোপিত সুদ এবং অবলোপন করা হলেও এখনো অনাদায়ী অংশের পরিমাণ।
এ ছাড়া আংশিক অবলোপন করা ঋণ হিসাবও পুনঃতফসিল বা এক্সিট সুবিধা পেতে পারবে, যাতে অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার সহজ হয়।
আগে যে নিয়মে কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যেত না, সেই সংশ্লিষ্ট বিআরপিডি সার্কুলার বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। এতে অনাদায়ী ঋণের অকারণে স্ফীত হিসাব কমবে, ব্যাংকের হিসাবপত্র আরও স্বচ্ছ হবে এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Posted ৩:৪৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


