
| রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 499 বার পঠিত

দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ জমা আছে এমন হিসাবের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আর্থিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধির প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোটি টাকার বেশি জমা রয়েছে এমন হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি হিসাব।
২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। তিন মাসে এই হিসাব বেড়েছে ৭৩৪টি।
হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও এসব হিসাবে জমা মোট অর্থের পরিমাণ কমেছে। জুন শেষে কোটি টাকার হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, তিন মাসে কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। ১৯৮০ সালে সংখ্যা হয় ৯৮টি। ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২,৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫,১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮,৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ১৯,১৬৩টি।
পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি হিসাব ছিল ৯৩,৮৯০টি। ২০২১ সালের শেষে তা দাঁড়ায় ১,০০,৯৭৬টিতে। ২০২২ সালে ১,০৯,৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১,১৬,৯০৮টি এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১,২২,০৮১টি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৮,০৭০টিতে।

Posted ১০:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


