
| সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 685 বার পঠিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের কল্যাণ, পেশাগত উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতে উদ্ভাবন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (বিআইপিডি) আয়োজিত দশম জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এআই–এর সঠিক ব্যবহার সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা তুলে ধরেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত “দি ফিউচার অব প্রফেশনাল এক্সিল্যান্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)” শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিআইপিডির চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্যে বিআইপিডির মহাপরিচালক কাজী মো. মোরতুজা আলী বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে এআই–এর প্রভাব আরও বাড়বে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়াতে এখনই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকচুয়ারি ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ। আরও বক্তব্য দেন গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবিএম নুরুল হক এবং আইএনএম–এর নির্বাহী পরিচালক ও বিআইপিডির একাডেমিক কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মুজেরী।
বক্তারা জানান, ব্যাংক ও বীমা খাতে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর ঘটছে। এ প্রক্রিয়া সহজ করতে এআই–চালিত অটোমেশন, জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি সাইবার ঝুঁকি, ডেটা অপব্যবহার এবং স্বচ্ছতার সংকটের মতো বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সেমিনারে তিনটি পৃথক টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশন পরিচালনা করেন ড. সোহরাব উদ্দিন। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের রিইন্স্যুরেন্স বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল কাদির, অগ্রণী ব্যাংকের শারমিন তাজরিয়া অনন্যা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সেক্রেটারি অব স্টেট অফিসের চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার আলতাফ উদ্দিন।
দ্বিতীয় সেশন পরিচালনা করেন সোনালী ব্যাংকের সিআইটিও মো. রেজওয়ান আল বখতিয়ার। আলোচনায় অংশ নেন সোনালী ব্যাংকের ড. জাহিদুজ্জামান জাহিদ, অগ্রণী ব্যাংকের খন্দকার শহীদ হায়দার, সাবেক সিডিও আবু সাইদ মো. আশরাফুজ্জামান এবং বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ফয়সাল আহমেদ। তারা জালিয়াতি শনাক্তকরণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তৃতীয় সেশনের সভাপতিত্ব করেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. জালালুল আজিম। আলোচনায় অংশ নেন মাইক্রোইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ এস. এম. জিয়াউল হক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মো. সাইফুল আলম তালুকদার এবং নেটকম লার্নিংয়ের ফাহমিদুল আলম।
সেমিনারে প্রায় একশ শিক্ষক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ এবং ব্যাংক-বীমা খাতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কাজকে সহজ করলেও গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়গুলো সবসময় নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, অটোমেশন বিস্তৃত হলেও মানুষের সৃজনশীলতা, চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Posted ৬:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


