
| মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 246 বার পঠিত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
সকাল ৭টার দিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যরা তার শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন। বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলী রহমান সিঁথি হাসপাতালে ছিলেন। এ ছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক সমস্যার কারণে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ক্রমাগত অবনতি ঘটে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।
তিনি মোট তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশে তার ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২০০৭ সালের পর বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়ে তিনি কারাবন্দি হন। ২০১৮ সালে একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে মূলত বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সমর্থক-অনুসারীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই তাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছেন।

Posted ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


