
| মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 457 বার পঠিত

বীমা খাতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে যোগ্য মানবসম্পদের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ‘মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ও অপসারণ প্রবিধানমালা, ২০১২’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রজ্ঞাপন গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ জারি করা হয়।
আইডিআরএর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের অনেক বীমা কোম্পানিতে সিইও পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলেও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডিশনাল এমডি) ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা এই পদে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট যোগ্য। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং যোগ্য প্রার্থীর পরিধি সম্প্রসারণের জন্য প্রবিধানমালায় এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
আইডিআরএ জানায়, সংশোধিত প্রবিধানমালায় সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি বীমা কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বহুজাতিক বীমা কোম্পানিতে উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিরাও সিইও পদে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
এছাড়া একচ্যুয়ারি, সিপিএ, সিএফএ, সিএলইউ, আইসিএবি, এসিসিএ ও আইসিএমএবি’র ফেলো বা এসোসিয়েটসহ বিভিন্ন স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রি বা পদবিধারীদের ক্ষেত্রেও সিইও নিয়োগের শর্ত শিথিল করা হয়েছে। আইডিআরএর মতে, এতে উচ্চ পেশাগত যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন জনবল বীমা খাতে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশোধিত প্রবিধানমালায় সিইও নিয়োগ বা নবায়নের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিল এবং আইডিআরএ কর্তৃক সিদ্ধান্ত জানানোর সময়সীমা আগের ১৫ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
একই সঙ্গে সংশোধনীতে দুর্নীতিবিরোধী কঠোর বিধানও সংযোজন করা হয়েছে। কোনো বীমা কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং বা আর্থিক অনিয়মের কারণে অপসারিত ব্যক্তি কিংবা যাদের সিইও হিসেবে নিয়োগ বা নবায়নের আবেদন আইডিআরএ প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা ভবিষ্যতে অন্য কোনো বীমা কোম্পানিতে সিইও হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না।
আইডিআরএ আশা করছে, সংশোধিত এই প্রবিধানমালার মাধ্যমে সম্ভাব্য সিইও প্রার্থীদের পরিসর ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হবে, দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি কমবে এবং বীমা কোম্পানিগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বীমা খাতের ওপর জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

Posted ১:৩৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


