
| সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 436 বার পঠিত

সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরিতে এবার সরাসরি মাঠে নামল বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ–১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫–এ অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখার সামনে এবং দৃষ্টিনন্দন স্থানে অন্তত দুটি খাড়া ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দেওয়া নির্দেশনার আলোকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যানারের নকশা ও বিষয়বস্তু প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মৌখিকভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণার আহ্বান জানান। তখন কিছু ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে প্রচারণা শুরু করলেও কয়েকটি ব্যাংক লিখিত নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রমে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। তাদের সেই অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
ইতোমধ্যে রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার দেখা গেছে।
ব্যানারগুলোতে লেখা রয়েছে- গণভোট ২০২৬, সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে। আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে গণভোট সংশ্লিষ্ট ১২টি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে- সরকারি দল ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে; বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন; কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে; ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে; বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে; মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়বে এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা যাবে না; দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে।

Posted ৮:৫৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


