
| বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 985 বার পঠিত

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে অকার্যকর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের কোনো সুযোগ থাকবে না, তবে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার মধ্যে, তারা চলতি নভেম্বর মাস থেকেই তাদের টাকা তুলতে পারবেন।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, জাকির হোসেন চৌধুরি, মো. কবির হোসেন সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
গভর্নর বলেন, দুই লাখ টাকার বেশি আমানতধারীদের অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে শিগগিরই আলাদা নির্দেশনা জারি করা হবে। এ মাসেই এই বিষয়ে গেজেট আকারে নির্দেশনা প্রকাশ হবে । তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সরকার অধিগ্রহণ করায় আমানতকারীদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। প্রয়োজন না থাকলে ব্যাংকে ভিড় সৃষ্টি না করারও অনুরোধ করেন তিনি।
গভর্নর জানান, একীভূত হলেও নতুন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যাংকের মতোই পরিচালিত হবে। ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম— পেমেন্ট, আমদানি-রপ্তানির এলসি খোলা, চেক নিষ্পত্তি ও রেমিট্যান্স— আগের মতোই চালু থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান বেতন কাঠামোও অপরিবর্তিত থাকবে।
এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর জানিয়েছেন,
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত থাকলেও এই পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন না । কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এসব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনএভি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায়। তাই শেয়ারের ভ্যালু শূন্য ধরা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের কোনো ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন ইসলামী ব্যাংক— ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। নতুন ব্যাংকের মোট মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের দেওয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার। এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট আমানত রয়েছে এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। তবে এই ব্যাংকগুলোর বিপরীতে ঋণ আছে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ বা ৭৬ শতাংশ বর্তমানে খেলাপি।
পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ড বাতিল হওয়ায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকে আলাদা আলাদা প্রশাসক দায়িত্ব নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রশাসক হিসেবে এক্সিম ব্যাংকে দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম।

Posted ৯:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


