
| বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 538 বার পঠিত

ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে একীভূত টপাঁচটি ব্যাংকের সব ধরনের চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং বিদ্যমান সব চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের জমা অর্থ পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা আপাতত সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত উত্তোলন করতে পারবেন। যারা এখনই আমানত তুলবেন না, তারা বাজারভিত্তিক মুনাফা পাবেন এবং প্রয়োজনে আমানতের বিপরীতে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পাঁচ ব্যাংকের সব চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্থায়ী আমানত ভাঙা যাবে না। তবে বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা মিলবে। নতুন করে জমা দেওয়া আমানতের ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে যুক্ত হবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনে চাকরির শর্তাবলি পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। কেউ চাকরি না করতে চাইলে লিখিতভাবে ইচ্ছা জানিয়ে ইস্তফার সুযোগ পাবেন।
ব্যাংক রেজল্যুশন–২০২৫ অনুযায়ী, রেজল্যুশন কার্যকর হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর হওয়া ব্যাংকগুলোর নামে থাকা সব ব্যাংকিং কাগজপত্র বৈধ থাকবে। অর্থাৎ আগের ব্যাংকের নামে ছাপানো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, টাকা উত্তোলনের ফরম, ভাউচার, রসিদ ও আবেদনপত্র দিয়েই গ্রাহকরা স্বাভাবিক লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবেন। নতুন কোনো কাগজপত্র নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং আগের মতোই লেনদেন চলবে। এই রেজল্যুশন প্রক্রিয়াকে ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন জোরদার করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির স্থায়ী আমানতসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনে রূপান্তর করা হবে। তবে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, জয়েন্ট ভেঞ্চার, বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিদেশি দূতাবাস এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং দেশের আর্থিক খাত আরও স্থিতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

Posted ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


