শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতায় থাকা ৬ এনবিএফআই অবসায়নের পথে

  |   বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   317 বার পঠিত

অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতায় থাকা ৬ এনবিএফআই অবসায়নের পথে

দীর্ঘদিনের লুটপাট, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগ দিতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থতা, অতিমাত্রায় খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি-এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে আগে ৯টি এনবিএফআইকে ‘অকার্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং-এই ছয়টির অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এই মুহূর্তে বন্ধ করা হচ্ছে না। তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি প্রমাণের জন্য নির্ধারিত সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত ঋণ বিতরণের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সন্তোষজনক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনা হয়।

অবসায়নের সিদ্ধান্তের আগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট এনবিএফআইগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করেই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়, যা পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড অনুমোদন দেয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে অনেক এনবিএফআই কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়ে। আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের তালিকায় থাকা নয়টি দুর্বল এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই, তাদের জমা দেওয়া মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। সম্পদ মূল্যায়ন শেষে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অর্থ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধু তাদের মূল জমাকৃত অর্থই পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটাপন্ন এই নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের মোট পরিমাণ ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমা রয়েছে ৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা এবং বাকি ১১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের।

ব্যক্তি আমানতকারীদের সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে রয়েছে পিপলস লিজিংয়ে—১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এছাড়া অ্যাভিভা ফাইন্যান্সে ৮০৯ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৬৪৫ কোটি এবং প্রাইম ফাইন্যান্সে ৩২৮ কোটি টাকা সাধারণ আমানতকারীদের জমা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এসব হিসাব কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বর্তমানে দেশে মোট ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এনবিএফআই খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৯ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ২৯ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুন শেষে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা—যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। ফলে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।

 

প্রতিদিনের অর্থনীতি/এসআর
Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com