
| সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 379 বার পঠিত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবারও সংকোচনশীল নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি উপস্থাপন করেন। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে এটি প্রকাশিত মুদ্রানীতিগুলোর মধ্যে তৃতীয়টি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার ভারসাম্য ধরে রাখাই এই মুদ্রানীতির মূল উদ্দেশ্য। দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ এবং বৈদেশিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় দিকনির্দেশনা দিতে বছরে দুই দফায় জুলাই-ডিসেম্বর ও জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়।
নতুন নীতিতে চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি রয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
নীতিগত সুদহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক আগের অবস্থানেই রয়েছে। গত বছরের ২২ অক্টোবর প্রধান নীতি সুদহার রেপো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা নতুন মুদ্রানীতিতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। একইভাবে আন্তঃব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) সুদহার ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ বহাল থাকছে। তবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত রাখলে যে সুদ পায়, সেই স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) হার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থ জমা না রেখে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ায় সে লক্ষ্যেই এসডিএফের সুদহার কমানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও নতুন মুদ্রানীতিতে সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে এই প্রত্যাশা থেকে আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি খাতের ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে এই খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। উল্লেখ্য, আগের অর্থবছরে সরকারি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ, তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবে ঋণ নেওয়া হয়েছিল ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
নতুন মুদ্রানীতির মাধ্যমে বিনিয়োগে গতি আনা, ঋণ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Posted ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


