
| বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 272 বার পঠিত

ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোয়েস্ট বিডিসির (সাবেক পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার) অনিয়ম, দুর্নীতি ও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোম্পানিটির পরিচালক রিয়াজ ইসলাম ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজারের সব কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএসইসির ৯৭৮তম কমিশন সভায় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। পরবর্তীতে বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায় থাকা ছয়টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে লোকসানি ও অকার্যকর কোম্পানি পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেডে (পরবর্তীতে কোয়েস্ট বিডিসি) প্রায় ৬৮ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়। বিনিয়োগের সময় কোম্পানিটির কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না এবং প্রতি শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ঋণাত্মক।
এ ছাড়া কোম্পানির নাম পরিবর্তন, প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানো, প্রাইস সেনসেটিভ তথ্য প্রকাশ না করা, ইজিএম না করা ও শেয়ার লক-ইন না রাখাসহ একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে।
এ প্রেক্ষিতে কমিশন ৯ দফা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয়—
১️। রিয়াজ ইসলাম, শিবলী রুবাইয়াতসহ সাত পরিচালককে শাস্তি: সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রত্যেককে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়।
২️। এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের নিবন্ধন বাতিল: ৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে অনিয়মিত বিনিয়োগকৃত অর্থ সুদসহ ৯০ কোটি টাকা ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩️। ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করায় এলআর গ্লোবালের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু: ফান্ডগুলোর ট্রাস্টি বিজিআইসিকেও ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
৪️। কোয়েস্ট বিডিসির নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: পেশাগত দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) বিষয়টি পাঠানো হয়েছে।
৫️। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ: কোয়েস্ট বিডিসির ২৪.৯৫ কোটি টাকার বিনিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রমাণ মেলায় বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, ১০ টাকার শেয়ার ২৮৯ টাকা দরে কেনার পেছনে এলআর গ্লোবাল ও সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের যোগসাজশ ছিল। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম এবং সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান কমিশন মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে গাফিলতিতে থাকা কোম্পানি ও ফান্ড ব্যবস্থাপকরা এখন নজরদারিতে এসেছে।

Posted ১:২৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


