
| রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 155 বার পঠিত

সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন, যা আগের বছর ২০২৪ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুর্ঘটনা, নিহত ও আহত-সবকটি সূচকেই উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই বছরে রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হন। এছাড়া নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৮ জন। সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন পথে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬ জন।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার চিত্র বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৮৩ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ২১৯ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.০৪ শতাংশ, মোট নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১৪.৯৮ শতাংশ।
দুর্ঘটনার শিকারদের পেশা ও পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে—আহত ও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৯০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১ হাজার ৬৯১ জন চালক, ১ হাজার ২১৬ জন পথচারী, ৫৫১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৩২ জন শিক্ষার্থী, ১২৯ জন শিক্ষক, ১ হাজার ৫৬ জন নারী, ৬২২ জন শিশু, ৬৯ জন সাংবাদিক, ১৫ জন চিকিৎসক, ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৫ জন আইনজীবী, ৯ জন প্রকৌশলী এবং ১৪১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৮.৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ৪.২২ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৯০ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেগুলোর অবাধ চলাচলের কারণে জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে ২.৫৫ শতাংশ এবং আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫.৪৭ শতাংশ। তবে ফিডার রোডে দুর্ঘটনা কমেছে ৬.৯৮ শতাংশ, ঢাকা মহানগরীতে ০.৭১ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০.০৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর দেশের আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকা জরুরি।
এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভাড়া নির্ধারণ, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবহন শ্রমিকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, নির্বাচনী ইশতেহারে গণপরিবহন নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Posted ১:৩৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


