ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে(২০২৬-২০২৭) মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে সংস্থাটি প্রাক্কলন করেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (জুন,২০২৫ এবং জুন ২০২৬) গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকে তৎকালীন গভর্নর একাধিকবার ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট কমানোর দাবির প্রেক্ষিতে একাধিকাবর বলেছিলেন, আগামী জুন মাসের (জুন,২০২৬) মধ্যে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশে নেমে এলে পলিসি রেট কমানোর বিষয় বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ তিনি ধরে নিয়েছিলেন জুন,২০২৬ এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশে নেমে আসবে। কিন্তু তার সেই প্রত্যাশা বাস্তবে পরিণত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান অস্ত্র কিসেবে সংকেচনমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে,শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ব্যবহার করে কোনভাবেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যাবে নভ। অনেকেই মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ডাবল ডিজিট স্পর্শ করতে পারে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ২ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির সহনীয় মাত্রা হতে পারে ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ। এই অবস্থায় সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে অর্থবছরের(২০২৬-২০২৭) মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদগণ মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতির যে উচ্চ প্রবণতা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করলে বিশ্বব্যাপী জ¦ালানি তেল ও খাদ্য পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। রাশিয়া এবং ইউক্রেন মিলিতভাবে বিশ্বের মোট দানাদার খাদ্যের ৩০ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। এছাড়া রাশিয়া এককভাবে বিশ্ব জ¦ালানি তেলের ১০ থেকে ১২ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। যুদ্ধ শুরু হবার সময় ইউক্রেন ও রাশিয়ায় খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বন্দর অবরোধ করে রাখার ফলে ইউক্রেন তার উৎপাদিত খাদ্য পণ্য রপ্তানি করতে পারেনি। নজীরবিহীন অবরোধের ফলে রাশিয়া জ¦ালানি তেল রপ্তানি সাংঘাতিকভাবে কমে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সাপ্লাই চেইন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালের জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়,যা ছিল দেশটির বিগত ৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা(ফেড) উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রবণতা রোধের জন্য বিনিয়োগ স্থবিরতার ঝুঁকি নিয়ে হলেও বারবার পলিসি রেট( কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিডিউল ব্যাংকগুলোকে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য যে ঋণ বা ধার দেয়) বাড়াতে থাকে। সঙ্কট শুরু হবার আগে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার পলিসি রেট ছিল দশমিক ২৫ শতাংশ। তারা এই রেট পর্যায়ক্রমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করে। পলিসি রেট বাড়ানো হলে সিডিউল ব্যাংকগুলো ব্যাংক ঋণের সুদের (ব্যাংকগুলো গ্রহাক পর্যায়ে ঋণদানের সময়ে যে সুদ হার আরোপ করে) হার আনুপাতিকভাবে বৃদ্ধি করে। এতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ আগের তুলনায় ব্যয়বহুল হয়। ফলে গ্রহাক পর্যায়ে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পায়, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে বাজারে অর্থ যোগান কমিয়ে দেয়। এতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৭টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পলিসি রেট বৃদ্ধি করতে থাকে। বিশ্বের অন্তত ৬০টি দেশ পলিসি রেট বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অর্থনৈতিকভাবে সমস্যাগ্রস্ত শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি এক পর্যায়ে ৬৯ দশমিক ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়। খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হয়। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক পর্যায়ে পলিসি রেট ২৬ শতাংশে উন্নীত করে। এতে ব্যাংক ঋণ প্রবাহ কমে যায় এবং বাজারে অর্থ প্রবাহ হ্রাস পায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুতই তাদের পলিসি রেট কমিয়ে আনে। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় স্বাধীনভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমে গত জুন মাসে তা ৬দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২২ সালে এপ্রিল মাসে ভারতের মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ,যা বর্তমানে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৩ সালের মে মাসে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ছিল ৩৮শতাংশ,বর্তমানে তা ১১ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার পলিসি রেট বৃদ্ধির করেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারেনি। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯দশমিক ৯২ শতাংশ। গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকার অনুসরণে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার পলিসি রেট বৃদ্ধি করলেও তারা স্থানীয় ব্যবসায়ি-উদ্যোক্তাদের চাপের মুখে এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে যা মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ না করে আরো উস্কে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০ সালে পহেলা এপ্রিল থেকে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির হার যখন ৯দশমিক ৯২ শতাংশে উন্নীত হয় তখনও ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার ৯শতাংশ নির্ধারিত ছিল। এতে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়ে।
২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতিতে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই সময়ে ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ আমদানি হ্রাস পায় ৭৬ শতাংশ। কাঁচামাল এবং মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমে ১৪ শতাংশ করে। তার অর্থ হচ্ছে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে একটি মহল তা উৎপাদনশীল খাতের পরিবর্তে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে। এমনকি অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদ হার প্রত্যহার করে বাজারভিত্তিক করতো তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারতো। বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তা-ব্যবসায়িদের চাপের মুখে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১১০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। বাজারে তখন মার্কিন ডলারের প্রচণ্ড চাহিদা প্রত্যক্ষ করা যায়। কার্ব মার্কেটে প্রতি মার্কিন ডলার ১২৩/১২৪ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। একটি চিহ্নত মহল ব্যাংক থেকে সস্তায় মার্কিন ডলার ক্রয় করে বিভিন্ন উপায়ে তা বিদেশে পাচার করতে থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের উপার্জিত রেমিট্যান্স হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠাতে থাকে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থাপনার উপর সরকারের কার্যত কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। পণ্য পরিবহনে ব্যাপক ভিত্তিক চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেশনের মধ্যেমে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা ইত্যাদি কারণে বাজারে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। তৃণমূল পর্যায়ের উৎপাদক তার উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না। বাজারজাতকরণের উপর তৃণমূল পর্যায়ের উৎপদেকদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগিদের নিকট তাদের পণ্য তুলে দিতে বাধ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগিরা সেই পণ্যটি কয়েকগুন বেশি মূল্যে ভোক্তাদের নিকট বিক্রি করে থাকেন।
বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ গ্রহণীয় হতে পারে। মূল্যস্ফীতি এর চেয়ে বেশি হলেই গণদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। নিম্নবিত্ত এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের উপর উচ্চ মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উৎপাদন যন্ত্রের উপর যাদের নিয়ন্ত্রণ আছে তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হন না। তারা কোন না কোনভাবে তাদের আয় বাড়াতে পারেন। যেমন বাজারে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি পেলে রিক্সা মালিক তার দৈনিক জমার পরিমাণ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। এমনকি রিক্সাচালক ভাড়া বৃদ্ধি করে তার দেয়া বর্ধিত জমার টাকা তুলে নিতে পারেন। কিন্তু যিনি রিক্সাযাত্রী এই পরিস্থিতিতে তার তেমন কিছু করণীয় থাকে না। অর্থাৎ বর্ধিত ভাড়ার দায়ভার তাকেই বহন করতে হয়। মূল্যস্ফীতি একজন ভোক্তার উপর কোন চাপ সৃষ্টি করতে পারে না যদি তার মজুরি বা প্রকৃত আয় সমানতালে পাল্লা দিয়ে বাড়ে। যেমন, কোন একজন চাকরিজীবী বা অন্য কোন পেশার মানুষের বার্ষিক আয় হয়তো ১ লাখ টাকা এবং তার ব্যয়ও ১ লাখ টাকা। বছরে তার বেতন বৃদ্ধি পায় ২০ শতাংশ। তাহলে বছরান্তে তার বেতন হবে ১লাখ ২০ হাজার টাকা। অভ্যন্তরীণ বাজারে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি যদি ১০ শতাংশ হয় তাহলে উল্লেখিত ব্যক্তির কোন অসুবিধা হবে না। কারণ বছর শেষে তাকে বাড়তি খরচ করতে হবে না। কারণ বাড়তি বেতন দিয়ে তিনি তার সংসারের খরচ নির্বাহ করার পরও কিছু অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে দেশের সব মানুষের আয় সমান তালে বাড়েনা,মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তো নয়ই।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি বা আয় বৃদ্ধি পায় না। ফলে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা বা আয় দ্বারা সংসার চালানো অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় বৃদ্ধি না পেলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মানুষের আয় যেভাবে বেড়েছে ব্যয় তার চেয়ে অনেক বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। গত সাড়ে ৪ বছর ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় বাড়ছে না। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। একই সময়ে মজুরি বেড়েছিল ৬দশমিক ০৬শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৯দশমিক ৭৩ শতাংশ ও ৭দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১০দশমিক ০৩ শতাংশ ও ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও ৮দশমিক ১০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মজুরি বৃদ্ধি না পাবার কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হবে। এছাড়া নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে কিছু মানুষের আয় বাড়লেও সার্বিকভাবে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত কর্মীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে। কারণ তাদের বেতন বর্ধন সুবিধা উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যয় কমানোর জন্য কর্মী ছাটাই করতে পারে। ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কর্মীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে সে ধরনের নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে তৎপর ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। দারিদ্র্য বুঝে না নৈতিকতা। তাই মানুষ যদি তার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংসার চালাতে না পারে তাহলে তার মাঝে অনৈতিক উপায়ে অর্থ আয়ের প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমাদের এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় না বাড়লে সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
অনুলিখন: এম এ খালেক
Posted ৫:৩২ পিএম | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity