ড.সালেহউদ্দিন আহমেদ | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
গত ৩০ মে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা আয়-ব্যয় সম্বলিত রাষ্ট্রীয় বাজেট সংসদে অনুমোদিত হয়েছে। নানা কারণেই এই বাজেট ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমান সরকার দেশের বিপর্যস্ত প্রায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে বাজেটে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট (জিডিপি)’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপি’র আকার হচ্ছে ৫০ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে হলে আগামী ৮বছরের মধ্যে জিডিপি’র আকার দ্বিগুন বৃদ্ধি করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত উচ্চাভিলষী একটি পরিকল্পনা। অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে প্রচেষ্টা চালানো হলে এক টিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি অর্জন করা অসম্ভব নয়। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে হলে প্রতি বছর গড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবশ্য বলেছে, জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে হলে প্রতি বছর ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি করতে হবে। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতি এবং সামাজিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নীতির ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরী মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন রোধ করতে হবে। বিনিয়োগ ব্যতীত কোনভাবেই দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রত্যাশা করা যায় না। বিশেষ করে সেই বিনিয়োগ হতে হবে ব্যক্তি খাতে।
আমাদের দেশে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, প্রাইভেট সেক্টর মানেই বেসররকারি খাত। আসলে অর্থনীতিতে এ দু’টি শব্দের অবস্থান ভিন্ন। প্রাইভেট সেক্টর প্রধানত ব্যক্তি খাত-যার মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ও বাণিজ্যিক বিকাশ। আর বেসরকারি খাত বা নন-গভর্নমেন্ট সেক্টর হচ্ছে অলাভজক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংস্থা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এই মুহুর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের উপর। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি’তে সার্বিকভাবে শিল্পখাতে অবদান ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে ব্যক্তি খাত বা প্রাইভেট সেক্টরের অবদান প্রায় ৮০ শতাংশ। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আসে পাবলিক সেক্টর থেকে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান মোতাবেক, খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪দশমিক ৭৫ শতাংশ। এটা গত ২ দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যাংক ঋণ প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য ব্যক্তি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি হওয়া উচিৎ ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। পুঁজি বাজার সঠিকভাবে বিকশিত না হওয়া এবং আস্থা অর্জন করতে না পারার কারণে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাগণ অর্থায়নের জন্য প্রধানত ব্যাংকিং সেক্টরের উপর নির্ভর করে থাকেন। তাই ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করলেই ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের অবস্থা অনুধাবন করা যায়। জিডিপি-প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট রেশিও হচ্ছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশ যদি আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপি’র আকার যদি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে হয় তাহলে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে। বর্তমানে সার্বিকভাবে বিনিয়োগের হার হচ্ছে জিডিপি’র ২৮ শতাংশ। একে অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের হার জিডিপি’র অন্তত ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য,এর আগে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র ২৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তার মধ্যেই গলদ রয়েছে। আমরা শিল্প স্থাপন করতে গেলে প্রথমেই বৃহৎ শিল্প স্থাপনের কথা চিন্তা করি। অনেকেই ভালো কর্মী হতে পারেন কিন্তু চাইলেই একজন মানুষ উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা পেতে পারেন না। উদ্যোক্তা হবার জন্য কিছু বিশেষ কোয়ালিটি থাকতে হয়। এসব কোয়ালিটি পরিশীলনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। তাই একজন উদ্যোক্তা যদি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন তাহলে তার পক্ষে পরবর্তীতে বৃহৎ শিল্প পরিচালনা মালিকানায় দক্ষতা প্রদর্শন করা সহজ হয়। তিনি তার অর্জিত অভিজ্ঞতা বৃহৎ শিল্প পরিচালনার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবার আগে সিএমএসএমই খাতের উপর জোর দিতে হবে। যেসব বৃহৎ শিল্প বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বন্ধ অথবা রুগ্ন হয়ে আছে অথবা তাদের উৎপাদন ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছে না তাদের ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন অথবা অন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশ্বে এমন দেশ খুঁজে পাওয়া মুস্কিল যারা এসএমই খাতকে অবহেলা করে শিল্পায়িত হতে পেরেছে। চীনের জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৮০ শতাংশ। তাদের নতুন উদ্ভাবন বা প্যাটেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। জাপানের জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। জাপানি এসএমই শিল্প বৃহৎ শিল্পের অনুবর্তী শিল্প হিসেবে কাজ করে। জাপানের অধিকাংশ বৃহৎ কোম্পানি পণ্য উৎপদেনের জন্য যেসব ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয় তা নিজেরা তৈরি না করে চুক্তির মাধ্যমে এসএমই শিল্প খাত থেকে তা সংগ্রহ করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের ৮৮ শতাংশই নিশ্চিত করে এসএমই খাত। ভারতের জিডিপি’ত এসএমই খাতের অবদান ৩০ শতাংশ। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের মোট আয়ের ৪৫ শতাংশ আসে এসএমই খাত থেকে। আর মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশ আসে এসএমই খাত থেকে। বাংলাদেশের জিডিপি’তে সিএমএসএমই খাতের অবদান ২৭ শতাংশের মতো। দেশের মোট শিল্প-কারখানার ৯০ শতাংশই সিএমএসএমই খাতে। পাকিস্তানের জিডিপি’তে এসএমই খাতের অবদান ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশের জিডিপি’র ৪৩ শতাংশ আসে ইনফর্মাল সেক্টর থেকে। কর্মসংস্থানের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ রয়েছে ইনফর্মাল সেক্টরে। যারা ইনফম্যাল সেক্টরে কাজ করেন তাদের অধিকাংশই দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন।
বাংলাদেশে বৃহৎ শিল্প এবং ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ করা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে বুহৎ শিল্পের মালিকগণ নানা কৌশল অবলম্নন করে ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদিত পণ্য বাজার থেকে বিতারিত করে থাকে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ক্ষুদ্র শিল্প এবং বৃহৎ শিল্পের মধ্যে কোন দ্বন্দ নেই বরং তারা পরস্পর সহযোগি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তাগণ ক্ষুদ্র শিল্পের মালিকদের নিকট থেকে চুক্তি ভিত্তিক যন্ত্রাংশ তৈরি করিয়ে নিয়ে সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ প্রোডাক্টে রূপ দিয়ে তা বাজারজাত করতে পারেন। যেমনটি করা হয় জাপানে।
আমরা যেভাবে শিল্পায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চালাচ্ছি তাতে আগামী ৮ বছরের মধ্যে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র ২৮ শতাংশে উন্নীত করা প্রায় অসম্ভব। তাই আমাদের শিল্পায়ন প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে। বৃহৎ শিল্প নাকি ক্ষুদ্র শিল্প কোনটি হবে শিল্পায়নের মূল চাবিকাঠি সে ব্যাপারে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বৃহৎ শিল্প স্থাপনের প্রয়োজন অবশ্যই আছে তবে সবচেয়ে বেশি দরকার হচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের উপর জোর দেয়া। সরকার ‘কটেজ,মাইক্রো, স্মল, মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) বিকাশের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কিন্তু পর্যাপ্ত নয়। আমাদের সিএমএসএমই খাতের বিকাশের জন্য পরিকল্পিতভাবে আরো জোর দিতে হবে। অর্থাৎ সিএমএসএমই খাতই হতে হবে আমাদের শিল্পায়নের মূল চাবিকাঠি। বিশ্বে এমন দেশ খুব কমই আছে যারা সিএমএসএমই খাতকে অবহেলা করে দ্রুত, সুষম এবং টেকসই শিল্প খাতে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সিএমএসএমই শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধা আছে। এতে কম বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সিএমএসএমই খাতের কোন বিকল্প নেই। সিএমএসএমই খাতের প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে তুলনামূলক কম সময়ের প্রয়োজন হয়।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা পদেক্ষপ গ্রহণ করা হচ্ছে। যেসব শিল্প-কারখানা বর্তমানে রুগ্ন অথবা বন্ধ হয়ে আছে সেগুলোকে পুনরায চালু করার জন্য নির্দিষ্ট প্যাকেজের আওতায় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীনে পরিচালিত অন্তত ৫০টি শিল্প-কারখানা, যেগুলো লাভজনকভাবে চলছে না তাদের ব্যক্তি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যা ম্যানজেমেন্টের অদক্ষতার কারণে তাদের উৎপাদন সক্ষমতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। এগুলোর ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে।
সিএমএসএমই হোক আর বৃহৎ শিল্প হোক সহজ বিনিয়োগপ্রাপ্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আমাদের দেশের উদ্যোক্তাগণ বিনিয়োগের জন্য সাধারণত ব্যাংকিং সেক্টরের উপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বর্তমানে উদ্যোক্তাদের চাহিদা মতো তহবিল যোগান দেবার মতো অবস্থানে নেই। এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ১০ শতাংশে নির্ধারণ করে রেখেছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদের সুদের হার কমছে না। আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ। এখন তা ১০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমছেনা। শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং উচ্চ পলিসি রেট দিয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পলিসি রেট বাড়িয়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সাময়িক কৌশল হতে পারে। কিন্তু এই কৌশল দীর্ঘ মেয়াদে আরোপ করা হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি না কমে বরং আরো বেড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে। বিনিয়োগ সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের অবস্থা খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ইউনাইটেড ন্যাশন্স ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (আঙ্কটাড) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদেন উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ মোট ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ করেছে। সেই সময় উন্নীয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ করেছে ভারত, যার পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনাম যথাক্রমে ২১দশমিক ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২০ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের তুলনায় উগান্ডার অর্থনীতির আকার সাত ভাগের এক ভাগ। অথচ ২০২৫ সালে মোট ৩ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আহরণ করতে সমর্থ হয়েছে, যা বাংলাদেশের আহরিত বিদেশে বিনিয়োগের চেয়ে প্রায় তিনগুন বেশি। এমনকি ঘানা,কঙ্গোর মতো দেশও বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় ভালো করেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট ও মাঝারি আকারের অসংখ্য শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও অর্থায়ন প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারছে না। এসব শিল্প-কারখানাকে বিশেষ কর্মসূচির অধীনে আনুষ্ঠানিক শিল্পখাতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আবেগের বশবর্তী না হয়ে আমাদের বাস্তবতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের উপযোগি করে শিল্পায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে সময় লাগে তুলনামূলক কম। বড় শিল্পে যেহেতু উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মেশিনের উপর বেশি নির্ভর করা হয় তাই এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এখনো অতিমাত্রায় শ্রমিক নির্ভরশীল। তাই এই শিল্প বেকার সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বড় শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ খেলাপির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু ত্রুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ খেলাপির হার খুবই কম। তাই ব্যাংক এদের অর্থায়ন করে নিরাপদ বোধ করতে পারে।
আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সিএমএসএমই খাতের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা অবশ্যই বৃহৎ শিল্প স্থাপন করবো কিন্তু তাই বলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অবজ্ঞা করে নয়।
অনুলিখন: এম এ খালেক
Posted ৬:২০ পিএম | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity