অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি

এম এ খালেক   |   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট

অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি
Share

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকটাই নির্ভর করে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের গতি প্রকৃতির উপর। পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টেেমন্টর মাধ্যমে প্রধানত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করা হয়। পাবলিক সেক্টরে যে ইনভেস্টমেন্ট হয় তা সরাসরি উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত হয় না। বরং উৎপাদনশীল কাজে সহায়ক শক্তি হিসেবে অবদান রাখে। উচ্চ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন,ব্যাপক মাত্রায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টেেমন্টের কোন বিকল্প নেই। পাবলিক সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের আরো একটি অসুবিধা হলো এখানে দুর্নীতির সুযোগ থাকে সবচেয়ে বেশি। ফলে পাবলিক সেক্টরে বিনিয়োগের নামে চলে প্রতিবন্ধকতাহীন দুর্নীতিক। বিশ্বে এমন একটি দেশের দৃষ্টান্ত দেখানো যাবে না যারা প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টকে অবহেলা করে সুষম জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের চেয়ে পাবলিক সেক্টরে বিনিয়োগের অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশি। নিকট অতীতে এক শ্রেণির উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে তা উদ্দীষ্ট কাজে ব্যবহার না করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। এমনকি ঋণকৃত অর্থ বিদেশে পাচার করার ঘটনাও অহরহ ঘটেছে। ২০১১ সালে আদালতের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংবিধান থেকে বাতিল করার পর দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। ফলে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ আহরণের একমাত্র শর্ত না হলেও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে অনিশ্চয়তা বেশি ছিল। ফলে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকারিগণ ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করে। আর বিদেশি বিনিয়োগকারিগণ এই অবস্থায় বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলশ্রুতিতে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট (পিএসআই) অনেক দিন ধরেই স্থবির হয়ে আছে। পাবলিক সেক্টরের বিনিয়োগ প্রবাহ মোটামুটি সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলেও প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট অনেকটা একই স্থানে স্থির হয়ে আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সর্বশেষ তথ্য মোতাবেক,বর্তমানে জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের রেশিও দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এটা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ হয়েছিল ২২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে (২০২৪-২০২৫) চলতি মূল্যে গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপি’র আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা। একই সময়ে পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরে মিলিতভাবে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি কাঙ্খিত মাত্রায় উন্নীতকরণ এবং বেকার সমস্যা সমাধান ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টর গতিশীল করার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের হার অনেক দিন ধরেই মন্থর হয়ে আছে। প্রতি বছরই প্রাইভেট সেক্টরের উচ্চ মাত্রায় বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বছরান্তে সেই লক্ষ্যমাত্রা অনার্জিত থেকে যায়। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকারে জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ২৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি। প্রাইভেট সেক্টরে কাঙ্খিত মাত্রায় বিনিয়োগ না হবার জন্য নানা কারণ দায়ি। এর মধ্যে সবার আগে উল্লেখ করতে হয় দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাগণ বিনিয়োগের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য প্রধানত ব্যাংকিং সেক্টরের উপর নির্ভর করে থাকেন। দেশের মোট ৬১ টি ব্যাংক বর্তমানে ব্যবসায়রত রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তারল্য সঙ্কটে ভুগছে। ফলে উদ্যোক্তাদের চাহিদা মতো ঋণদান করতে পারছে না। ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতার কারণে বাড়ছে খেলাপি ঋণের হার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে,২০০৯ সালে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বর কোয়ার্টারে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬ লাখ ৪৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে নগদ এক শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুন:তফসিলিকরণ ও অন্যান্য সুবিধা দেয়ার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ব্যাংকগুলো কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমাতে পারছে না। ব্যাংকিং সেক্টরকে বলা হয় ‘অর্থনীতির লাইফ লাইন।’ কিন্তু সেই ব্যাংকিং সেক্টরকে আমরা সঠিক ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে পারিনি। ব্যাপক দুর্নীতি-অনিয়ম এই খাতের স্বাভাবিক চলার পথকে ব্যহত করছে। উপযোগিতা বিবেচনা না করেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দলীয় সমর্থকদের নতুন ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়। ফলে পুরো ব্যাংকিং সেক্টরে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছেন। এমনকি বিদেশে পাচার করছেন। ব্যাংকিং সেক্টর সঠিকভাবে কাজ না করার ফলে প্রাইভেট সেক্টরে ঋণ প্রবাহ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরানিত হবে না। ব্যাংকারগণ প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিতে চায় না। তাদের কাছে যে আমানত আসে বা সংগৃহীত হয় হয় তা নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করে। তারা বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করে নিরাপদ থাকতে চায়। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের হার যদি জিডিপি’র ২৮/২৯ শতাংশে উন্নীত করা না যায় তাহলে অর্থনীতি গতিশীল হবে না। ন্যূনতম ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের হার জিডিপি’র অন্তত ২৮/২৯ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। বর্তমানে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের হার হচ্ছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যাংকের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে হবে।

উন্নত দেশগুলোতে উদ্যোক্তাগণ সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের জন্য শেয়ার বাজারের উপর নির্ভর করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখনো বিনিয়োগকারিদের আস্থার স্থানে পরিণত হতে পারেনি। বিশেষ করে ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে শেয়ারবাজার কেলেঙ্করির পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিরা শেয়ারবাজার বিমুখ হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন যেসব বড় বড় কোম্পানি আছে আমরা তাদের শেয়ার বাজারে আনতে পারছি না। শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি লাভজনক পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারিদের লভ্যাংশ দিতে হয় না। কিন্তু ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সুদ সমেত কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে বাজার শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারে আমরা আগ্রহী করে তুলতে পারিনি। বাজারে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। শেয়ারবাজারে যেসব অসঙ্গতি এবং দুর্নীতি রয়েছে তা দূরীকরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োাগ পরিবেশ নিয়ে নানা রকম সমস্যা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে ১৯০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। অর্থাৎ কার্যকর বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্বলতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিভাত হয়ে উঠে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে তারা ‘বিজনেস রেডি’ নামে একটি নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। ৫০টি দেশের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত এই সূচকে বাংলাদেশকে চতুর্থ সারিতে স্থান দেয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারিগণ কোন দেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এসব প্রতিবেদন বিশেষভাবে বিবেচনা করে থাকে। স্থানীয় বিনিয়োগকারিগণ নানা আইনি জটিলতার কারণে নিজ দেশের বাইরে বিনিয়োগ করতে পারে না। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারিদের ক্ষেত্রে তেমন কোন সমস্যা নেই। বিদেশি বিনিয়োগকারিগণ হচ্ছেন ‘শীতের অতিথি পাখি’ মতো। অতিথি পাখি যেমন কোন জলাশয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ এবং জীবনের নিরাপত্তা না পেলে আশ্রয় গ্রহণ করে না। বিদেশি বিনিয়োগকারিগণও তেমনি কোন দেশে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োজিত পুঁজি ও জীবনের নিরাপত্তা না পেলে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। বিনিয়োগ একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। বিদেশি বিনিয়োগকারিরা সাধারণত সরাসির বিনিয়োগ করে থাকেন। অথবা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করেন। তারা কোন দেশে বিনিয়োগের আগে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম পর্যালোচনা করে থাকেন। কোন দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্থানীয় বিনিয়োগ না হলে বিদেশি বিনিয়োগকারিগণ সেই দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন না।

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল একটি দেশ। এদের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা দিন দিনই বাড়ছে। এখানে তুলনামূলক কম মজুরিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করে পণ্য উৎপাদন করা হলে সেই পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারিদের নিকট একটি আদর্শ গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। কিন্তু আমরা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে পারিনি। প্রতিটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হয়। বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। বন্দর ব্যবস্থাপনা সেকেলে ধরনের। বন্দরে পণ্য উঠানামা করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

ব্যবসায় বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যা যা করণীয় তা করতে হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। হঠাৎ হঠাৎ নীতি পরিবর্তন করা হলে তা বিনিয়োগ কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য খুবই প্রয়োজন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সামাজিক অস্থিতিশীলতা একটি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিপন্ন করে। বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও খুবই কম। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশ। পরবর্তী বছর তা আরো কমে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশে নেমে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও হচ্ছে হচ্ছে ১২ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশেগুলোর জন্য ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ১৫ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে কর আদায় করতে না পারার কারণে সরকারকে উন্নয়ন ব্যয় মেটানোর জন্য বিদেশি ঋণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৯ সালের শুরুতে আওয়ামী লীগ তখন ক্ষমতাসীন হয় তখন বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে এসে তা ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। বর্তমানে তা ১১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গৃহীত বিদেশি ঋণের ৮২ শতাংশই এসেছে সরকারি খাতে এবং অবশিষ্ট ১৮ শতাংশ এসেছে ব্যক্তি খাতে। আর কয়েক বছর পর অবস্থা এমন হবে যে, নতুন করে ঋণ গ্রহণ করে পুরনো ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে উপযুক্ততা বিবেচনা না করেই ঢালওভাবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিদেশি ঋণ নেয়া হয়েছে।

 

লেখক
অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি
অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও উন্নয়ন বিষয়ে লেখালেখি করেন

Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ৫:৫৪ পিএম | সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

CHALLENGES OF BANCASSURANCE IN BANGLADESH
(409 বার পঠিত)
advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com