
| শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 625 বার পঠিত

পুঁজিবাজারে শেয়ার ইস্যু ও আইপিওর নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’ শীর্ষক নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিএসইসি’র সহকারী পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র মো. মোহাইমিনুল হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিধিমালাটি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রকাশের দিন থেকেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে।
বিএসইসি জানিয়েছে, নতুন এই বিধিমালার মাধ্যমে পাবলিক অফারের মাধ্যমে মূলধন উত্তোলনের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা বিএসইসি’র ওয়েবসাইটের ‘Securities Laws’ মেনুর অধীনে ‘Securities Laws, Rules, Regulations’ সাব-মেনু থেকে বিধিমালাটি দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন।
নতুন বিধিমালায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) জন্য বিডিংয়ে কাট-অফ প্রাইসের চেয়ে বেশি দর দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দর প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দেশক মূল্যের ২৫ শতাংশের কম বা বেশি দর দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে দর নির্ধারণে সংঘবদ্ধ বা অলিখিত যোগসাজশ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর ক্ষেত্রে আইপিও-পূর্ব পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা হতে হবে। আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। এ ক্ষেত্রে আইপিও-পরবর্তী মূলধনের ন্যূনতম সীমা ৫০ কোটি এবং সর্বোচ্চ ১২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে আইপিও-পরবর্তী পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। তবে গ্রীনফিল্ড কোম্পানির ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্য বা ডিসকাউন্টে শেয়ার ইস্যুর সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সেক্ষেত্রে মূলধনের সীমা ১২৫ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, আইপিও আবেদন পাওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কারখানা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য নথি যাচাই করা হবে। আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির সুপারিশ অথবা আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত কারণসহ জানাতে হবে।
কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালায় ফিক্সড প্রাইস আইপিওতে শেয়ার বণ্টনের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ শতাংশ করে, স্থায়ী কর্মীদের জন্য ৫ শতাংশ, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি ৫ শতাংশ, অনিবাসী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অনিবাসীদের জন্য ৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইআইদের জন্য ৪০ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড ১০ শতাংশ, কর্মীদের জন্য ৩ শতাংশ, অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ, উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য ৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।
লকইন পিরিয়ডে নতুন বিধিমালায় উদ্যোক্তা, উদ্যোক্তা গ্রুপ, পরিচালক ও ৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারীদের শেয়ার তিন বছরের জন্য লকইনে রাখা হয়েছে। এ সময় তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না। উদ্যোক্তার মৃত্যু হলেও তার উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রেও বাকি সময় একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এ ছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার তিন ধাপে লকইনের আওতায় থাকবে—৫০ শতাংশ শেয়ার ৯০ দিন, ২৫ শতাংশ ১২০ দিন এবং বাকি ২৫ শতাংশ ১৮০ দিন। স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিনিয়োগের তারিখ থেকে দুই বছর অথবা প্রথম ট্রেডিংয়ের পর এক বছর পর্যন্ত লকইনে থাকবে।
বিএসইসি মনে করছে, নতুন এই বিধিমালার ফলে আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালী হবে এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন আরও জোরদার হবে।

Posted ১:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


