
| বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 834 বার পঠিত

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বাজারনির্ভর করতে নতুন আইপিও রুলস ২০২৫ প্রণয়ন করেছে। নতুন রুলসে প্রাইসিং প্রক্রিয়ায় কার্টেল গঠন, কৃত্রিম দর প্রস্তাব ও প্রাইস ম্যানিপুলেশন ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি থেকে বুক বিল্ডিংয়ে গেলেও আগের নিয়মে কিছু দুর্বলতার কারণে প্রাইসিং স্বচ্ছ হয়নি। নতুন রুলসে সেই ঘাটতিগুলো দূর করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভালো ও মানসম্মত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতেই এই সংস্কার। প্রাইসিং স্বচ্ছ না হলে অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহী ছিল না।
নতুন বিধিমালায় সক্ষমতার বাইরে গিয়ে দর প্রস্তাব, কার্টেল গঠন ও কৃত্রিমভাবে দাম প্রভাবিত করার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনিয়ম ঠেকাতে ছয়টি নির্দিষ্ট শর্ত আরোপের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (পেনাল প্রভিশন) যুক্ত করা হয়েছে।
বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, শুধু দাম প্রস্তাব করলেই হবে না- সেই দামে শেয়ার কেনার সক্ষমতাও প্রমাণ করতে হবে, যাতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দর দিয়ে বাজার বিভ্রান্ত করতে না পারে।
খসড়া বিধিমালার ওপর সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে ১৭০টি মতামত পাওয়া যায়। এসব মতামত বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত রুলস প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন নিয়মে ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারকে ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে ইন্ডিকেটিভ প্রাইস যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে হবে। পাশাপাশি রোডশোর মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অন্তত ৪০ শতাংশ চাহিদার ভিত্তিতে সেই মূল্য যাচাই করতে হবে।
বিএসইসি জানায়, ২০০৬ সালের আইপিও বিধিমালায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত ছিল যেমন মেরিট মূল্যায়ন, ফিজিক্যাল ইন্সপেকশন ও স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ নতুন বিধিমালায় সেগুলো যুক্ত করা হয়েছে। তবে ইস্যুয়ার চাইলে যেকোনো একটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদ, অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির এবং যুগ্ম পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

Posted ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


