
| রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 913 বার পঠিত

পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যেই বিএসইসির সঙ্গে পুঁজিবাজার অংশীজনদের ৫ম মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া সভায় পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত ও উন্মুক্ত আলোচনা হয়। পরে বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, মোঃ আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মোঃ সাইফুদ্দিন (সিএফএ)সহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তব্যে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজারে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতা ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অংশীজনদের সহযোগিতায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিগত বছরে সম্পন্ন সংস্কার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫–এর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, নতুন পণ্য সংযোজন, রোড শো আয়োজন, ই-কেয়াইসির মাধ্যমে অনলাইনে বিও হিসাব খোলা, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তকরণ, মার্জার ও একুইজিশন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার, মার্চেন্ট ব্যাংকের কার্যপরিধি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, মার্জিন বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস—এই তিনটি বিধিমালাই পুঁজিবাজার সংস্কারের মূল ভিত্তি। তিনি জানান, ২০২৫ সালের মধ্যেই এসব বিধিমালার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ শেষ হয়েছে। আইপিওকে পুঁজিবাজারের হৃদপিণ্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন আইপিও বাজারে আসার পথ এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে, তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথসহ ডিএসই, সিডিবিএল, সিসিবিএল, বিএমবিএ ও সিএসইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিএসইসির নির্বাহী ও পরিচালকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Posted ৮:৫৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


