
| মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 438 বার পঠিত

দেশের শরীয়াহভিত্তিক জীবন বীমা খাতে দ্রুত অগ্রসরমান প্রতিষ্ঠান জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ, লাইফ ফান্ড শক্তিশালীকরণ এবং শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগে দৃঢ় অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। এই সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির টেকসই উন্নয়ন কৌশল ও গ্রাহক আস্থার শক্ত ভিত্তিকে আরও সুসংহত করেছে।
২০২৫ সালে জেনিথ ইসলামী লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ৩৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার তুলনায় ৪০.৭২ শতাংশ বেশি। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি জীবন বীমা খাতে কোম্পানিটির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও বাজারে শক্ত অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
প্রথম বর্ষ বা নতুন প্রিমিয়াম আয় ছিল এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি নতুন প্রিমিয়াম হিসেবে সংগ্রহ করেছে ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৮.২৩ শতাংশ বেশি। নতুন গ্রাহক সংযোজন, বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
একই বছরে একক বীমা থেকে প্রিমিয়াম এসেছে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং গ্রুপ ও হেলথ ইন্সুরেন্স থেকে এসেছে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকার তুলনায় ৭৫.৮১ শতাংশ বেশি।
নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহেও কোম্পানিটি স্থিতিশীল অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালে নবায়ন প্রিমিয়াম এসেছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৩৬ শতাংশ বেশি। বিদ্যমান গ্রাহকদের আস্থা ও পলিসি ধরে রাখার সক্ষমতার এটি একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ক্ষেত্রে জেনিথ ইসলামী লাইফ আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। ২০২৫ সালে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের হার ০.৬১ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নির্দেশ করে।
গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে প্রতিষ্ঠানটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৫ সালে উত্থাপিত মোট বীমা দাবির ৯৯.৫৪ শতাংশ পরিশোধ করেছে জেনিথ ইসলামী লাইফ। আলোচ্য বছরে মোট দাবি উত্থাপিত হয় ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যার বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে দাবি পরিশোধের হার ছিল ৯৮.১৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই হার ১.৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গ্রাহকসেবায় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ।
লাইফ ফান্ডেও কোম্পানিটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে লাইফ ফান্ডে ২৯.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় এবং নতুন করে ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা তহবিল যুক্ত হয়। এর ফলে বীমা গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা ৮.৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এটি বিচক্ষণ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও সুপরিকল্পিত আর্থিক কৌশলের ফল।
এ প্রসঙ্গে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের এই প্রবৃদ্ধি আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যবসা কৌশলের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা শুধু প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নই; বরং শরীয়াহসম্মত, স্বচ্ছ ও নৈতিক বীমা সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, প্রায় শতভাগ দাবি পরিশোধ গ্রাহকের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রমাণ। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পণ্য বৈচিত্র্য এবং দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এস এম নুরুজ্জামান জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জেনিথ ইসলামী লাইফের গ্রুপ বীমা সুবিধার আওতায় এসেছে। দ্রুত ও মানসম্মত গ্রাহকসেবার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও টেকসই প্রবৃদ্ধি, নৈতিক বীমা সেবা এবং গ্রাহক আস্থার ভিত্তিতে দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

Posted ৬:১৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


