
প্রতিদিনের অর্থনীতি ডেস্ক | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 230 বার পঠিত

দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাবিধুর দিন ১৪ ডিসেম্বর—শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে, বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান—শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের। জাতিকে মেধাশূন্য করতেই স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষে যখন বিজয়ের আলো স্পষ্ট, তখনই রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ১৪ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় তাদের। পরদিন মিরপুর ও রায়েরবাজারে ডোবা-নালা ও ইটখোলায় পাওয়া যায় ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ—যা পুরো জাতিকে শোক ও স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন করে।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত সংকলন, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০ জন। এই বুদ্ধিজীবীরাই মেধা, মনন ও কলমের শক্তিতে মুক্তিসংগ্রামকে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন—যা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির কাছে ছিল অসহনীয়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজ সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে শহীদ পরিবারের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সারাদেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে, উত্তোলিত হবে কালো পতাকা। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান, প্রকাশিত হবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা, দোয়া-মোনাজাত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মরণানুষ্ঠান।
শোকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেইসব আলোকিত মানুষকে—যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।

Posted ৫:০০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


