
| শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 93 বার পঠিত

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দেওয়া বীরদের স্মরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে মুখর সারাদেশ।
শ্রদ্ধা, শোক ও গর্বের একুশে
ফাল্গুনের পলাশ-শিমুলে রাঙা এই দিনে বাঙালির কণ্ঠে উচ্চারিত হয় চিরন্তন সেই গান— “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…”। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতিতে জাতি আজও আবেগে আপ্লুত।
প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধা নিবেদন
রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দিনব্যাপী প্রভাতফেরি, কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। সরকারি ছুটি উপলক্ষে দেশের সব প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে, পাশাপাশি উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা।
ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৪৭ সালের পরপরই রাষ্ট্রভাষা নিয়ে শুরু হয় আন্দোলন, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে।
এই আত্মত্যাগই পরবর্তীতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি এনে দেয় এবং ভাষা আন্দোলন হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে একুশে
ভাষার অধিকারের এই সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে, যখন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘও ২০১০ সালে দিবসটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা পুনরায় নিশ্চিত করে।
একুশের শিক্ষা ও প্রেরণা
একুশে কেবল শোকের নয়, আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের এই ইতিহাস বাঙালিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়, একই সঙ্গে নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষার অনুপ্রেরণা দেয়।

Posted ১:২১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


