শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আজ মহান বিজয় দিবস

  |   মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   209 বার পঠিত

আজ মহান বিজয় দিবস

আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির শৃঙ্খল ভাঙার দিন, গৌরবোজ্জ্বল মহাঅর্জনের দিন আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের বীরত্বের অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন আজ। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বীরের জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে আত্মপ্রকাশের দিন আজ। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিন এটি।

১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। লাখো শহীদের আত্মদান ও অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়ের দিনে বিজয়োল্লাসে ভাসবে গোটা দেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত নানা কর্মসূচি ও আয়োজনে উদযাপিত হবে মহান বিজয় দিবস।

দিবসটির সূচনালগ্নে ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং পরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা ও সংগ্রামের ইতিহাস পেরিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। বিজয়ের এই দিনে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোন, শহীদ পরিবারের সদস্য ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রাখা সকল সংগ্রামী যোদ্ধাকে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে সূচিত নবযাত্রা যেকোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন জাতিসত্তা ও লাল-সবুজের পতাকা।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিদেশি কূটনীতিক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন ও বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শোর আয়োজন করবে।

এছাড়া ‘টিম বাংলাদেশ’-এর প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবেন, যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে। দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের ফ্লাই-পাস্ট ও ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তবে এবারও জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।

 

প্রতিদিনের অর্থনীতি/এসআর
Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com