নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে ব্যাংকটি পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
সোমবার (১৫ জুন) এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে এবিবি এই সিদ্ধান্তকে ব্যাংকিং খাতের জন্য সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি মনে করে, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি এখন আর একটি একক প্রতিষ্ঠানের সীমার মধ্যে নেই; বরং এর প্রভাব পুরো ব্যাংকিং খাতে বিস্তৃত হয়েছিল।
এবিবির বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে গত ১০ জুন সংগঠনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একইসঙ্গে তারা মনে করে, দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হলে তা পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হবে।
সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানের প্রয়োজন ছিল। এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তারা প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আশা প্রকাশ করেছে, এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠিত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় তিন কোটি গ্রাহক, বিপুল আমানত ও বিনিয়োগ, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
এবিবি আরও উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনিয়ন্ত্রিত বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার প্রতিবাদ ব্যাংকটির সুশাসন, তারল্য পরিস্থিতি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল, যা ব্যাংকারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সেই উদ্বেগ প্রশমনে সহায়ক হবে বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে।
শেষে এবিবি ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি কামনা করে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে উচ্ছৃঙ্খল জনতার প্রভাব একটি গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
Posted ৫:৪৯ পিএম | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity