স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বর দল আর্জেন্টিনার সামনে ছিল ৬৪ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে ব্যবধান ছিল বিশাল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই পার্থক্য বোঝার উপায় ছিল না। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়।
তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর অতিরিক্ত সময়ের গোলে কেপ ভার্দের রূপকথার ইতি টানে আর্জেন্টিনা। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচটিতে নেমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়েন । এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ৩০তম ম্যাচ, যা এই আসরের ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপে ২৭তমবারের মতো শুরুর একাদশে খেলার রেকর্ডও গড়েন।
রেকর্ডময় ম্যাচে ২৯ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মেসিই। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান তিনি। এটি বিশ্বকাপে তার ২০তম গোল এবং চলতি আসরে সপ্তম, যা তাকে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। ডেরয় দুয়ার্তের দুর্দান্ত শটে ১-১ হয় ম্যাচ।
এরপর মেসি একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার দৃঢ়তায় ম্যাচে সমতা বজায় থাকে। নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে পাওয়া বল দারুণ দক্ষতায় জালে পাঠিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ।
তবে লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। সিডনি কাবরালের অসাধারণ বাঁকানো শটে আবারও সমতায় ফেরে আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আবির্ভাব ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর। ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে আসা বলে শক্তিশালী হেডে জয়সূচক গোল করেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হারলেও সাহসী পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে।
Posted ৭:৪৬ এএম | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity