
| বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 307 বার পঠিত

‘সময়মতো নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সারাদেশে জাতীয় ভ্যাট দিবস এবং ১০–১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্যাট সপ্তাহ উদযাপন শুরু হয়েছে। ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহর ও কমিশনারেট কার্যালয়ে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ রাজস্ব ভবনে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ।
ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, দেশের রাজস্ব কাঠামো দীর্ঘদিন আমদানি নির্ভর থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে। এ চাপ কমাতে আয়কর ও ভ্যাট আদায়ের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, ভ্যাট নেট ছোট হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত হারে নিবন্ধন বাড়ছে না। টার্নওভার সীমা ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখে নামানোর পরও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ বছর অন্তত ১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৯৯১ সালের জটিল ভ্যাট আইন সহজ করতে ‘সিঙ্গেল রেট ভ্যাট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা অটোমেশনকেও সহজ করবে। ব্যবসায়ীদের বোঝা উচিত—ভ্যাট তারা দেন না; এটি ভোক্তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত কর। ভ্যাট ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন রাজস্ব সংগ্রহকে অনেকগতিশীল করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ভ্যাট দিবসের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইন চলবে, যার লক্ষ্য ১ লাখ নবনিবন্ধন। বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৪ হাজার।
গত অর্থবছরে এনবিআরের মোট রাজস্বের ৩৮ শতাংশ এসেছে ভ্যাট থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায় বেড়েছে ২২ শতাংশ। ভ্যাট ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হলে দেশের আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
সরকার যে রাজস্ব সংগ্রহ করে তা শিক্ষা–স্বাস্থ্য, অবকাঠামো নির্মাণ, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ভর্তুকি, ঋণ পরিশোধসহ নানা জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হচ্ছে।
ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত ব্যবসা, অটোমেশনের অভাব, অতিরিক্ত অব্যাহতি, রেয়াত-শৃঙ্খলার দুর্বলতা এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে ভ্যাট আদায়ের জটিলতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অনলাইন নিবন্ধন, অনলাইন রিটার্ন, ই-পেমেন্ট, ই-রিফান্ড, ই-অডিট, স্মার্ট চালান ও ঝুঁকি-ভিত্তিক অডিটসহ অটোমেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা এবং কর ফাঁকি কমানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ভ্যাট ব্যবস্থা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

Posted ১২:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


