প্রতিদিনের অর্থনীতি রিপোর্ট | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশে কার্যকর বন্ড বাজার গড়ে না ওঠার অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাংক ঋণের তুলনায় বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে বেশি সময় ও ব্যয়কে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেছেন, বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ ও কম ব্যয়বহুল না হলে এ বাজার সক্রিয় হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবিলিটি সামিট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাসুদ খান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বন্ড বাজার গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বুঝতে পেরেছেন, ব্যাংক ঋণের তুলনায় বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হওয়াই এর প্রধান কারণ।
তিনি বলেন, “কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চাইলে নির্দিষ্ট ব্যয়ে প্রায় তিন মাসের মধ্যে অর্থ পেতে পারে। কিন্তু একই অর্থ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করতে গেলে প্রায় এক বছর সময় লাগে এবং খরচও বেশি হয়। এ বাস্তবতায় কেউ বন্ডে যেতে আগ্রহী হয় না।”
বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে বন্ড ইস্যুর সময় কমিয়ে আনা এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যাতে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের ব্যয় ব্যাংক ঋণের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক হয়। এতে করপোরেট খাতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন বাড়বে এবং দেশের পুঁজিবাজারও আরও গভীরতা পাবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে টেকসই বন্ড (সাসটেইনেবল বন্ড) বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে প্রচলিত বন্ড বাজারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ একটি দুর্বল ভিত্তির ওপর নতুন বাজার তৈরি করা সম্ভব নয়।
পুঁজিবাজারপ্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, দেশের বাজারে এখনো খুচরা বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য বেশি। অনেকেই পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই অন্যের পরামর্শ বা গুজবের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করেন, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) ছাড়া কার্যত অন্য কোনো বন্ডে লেনদেন নেই। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিএসইসি প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
করপোরেট গভর্ন্যান্সের বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সুশাসন চর্চা করে এমন প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারে। তবে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন পরিচালকের ভূমিকা এখনো কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, অনেক স্বাধীন পরিচালক বোর্ডে কার্যকর অবদান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বা দক্ষতা অর্জন করেননি। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, টেকসইতা এখন আর আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয় নয়; বরং এটি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশল ও পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে বাংলাদেশকে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সংস্কৃতি আরও জোরদার করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
Posted ৯:০২ এএম | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity