মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি বিনিয়োগকারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

মিউচুয়াল ফান্ড ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি বিনিয়োগকারীদের
Share

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে সদ্য বিদায়ী কমিশনের আমলে প্রণীত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন ঋণ বিধিমালা বাতিল বা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)। সংগঠনটির দাবি, এসব বিধিমালা কার্যকর হলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমআইএর সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার কিছু ধারা মেয়াদি ফান্ডগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তার মতে, বিদ্যমান মেয়াদি ফান্ডগুলোকে অবসায়নের পথে নেওয়া হলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা লাগতে পারে।

তিনি দাবি করেন, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে এবং এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবী সম্পৃক্ত। তাই এ খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, নতুন বিধিমালায় মেয়াদি ফান্ডের রূপান্তর বা অবসায়নের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ ইউনিটধারকের ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তবে যারা ফান্ড চালু রাখার পক্ষে মত দেবেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মার্জিন ঋণ বিধিমালা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিসিএমআইএর নেতাদের মতে, বিদ্যমান কিছু বিধান বাজারে বিনিয়োগ প্রবাহ ও লেনদেন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নতুন কমিশনের কাছে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি পুঁজিবাজারের অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিগত সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারে সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

এছাড়া একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, শেয়ার লেনদেন পুনরায় চালু অথবা সমন্বিত ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো পুনরায় চালু এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

বিনিয়োগকারী নেতাদের মতে, বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং দেশের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

 

/জে‌বি
Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ৩:২৭ পিএম | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com