নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
দেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের সংকট কাটাতে ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ তহবিলের আওতায় উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে গঠিত এ স্কিমের প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রমনির্ভর ও স্বল্প পুঁজিভিত্তিক সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে অর্থ দেবে। পরে ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের কাছে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব সচল কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না, তারা এ তহবিলের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা গ্রহণকারী উদ্যোক্তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন করে এ তহবিলের সুবিধা নিতে পারবেন।
প্রচলিত ধারার ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও ইসলামিক ব্যাংকিং শাখাগুলোও নিজস্ব বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ তহবিলের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে।
ঋণ বিতরণ ও আদায়ের পুরো দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে গ্রাহকের কাছ থেকে সহ-জামানত বা কোলাটেরাল গ্রহণ করতে পারবে।
তহবিলের আওতায় ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারা তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ ঋণ গ্রহণের পর প্রথম কয়েক মাস কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ফি ছাড়া উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ, কমিশন বা ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সিআইবি তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।
সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৭০ শতাংশের বেশি, তারা তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। যদিও কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ এডিআর সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।
এ তহবিলের সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
Posted ১০:৫০ পিএম | সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity