শনিবার ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রপ্তানি খাতে ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

  |   সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   177 বার পঠিত

কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, রপ্তানি খাতে ১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে দেশের রপ্তানি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এ ঘটনায় প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বা ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আলী বলেন, “কার্গো ভিলেজের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”

ইএবি জানায়, কার্গো ভিলেজটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অবকাঠামো, যেখানে তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা কাঁচামাল, অ্যাক্সেসরিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও নমুনা আমদানি–রপ্তানির কাজ করে থাকেন। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসগুলোও দলিলপত্র ও পার্সেল আদান–প্রদানে এই স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম আলী বলেন, “ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের কাঁচামাল, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য ও ফলমূল রপ্তানিকারকরা এই স্থাপনাটির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এসব সময়–সংবেদনশীল পণ্য সময়মতো বিদেশে না পৌঁছালে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই অগ্নিকাণ্ড শুধু সরাসরি নয়, পরোক্ষভাবেও ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে এনেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সদস্যদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এখনই বলা যায়, আগুনে পুড়ে যাওয়া পণ্যের পাশাপাশি রপ্তানি বিলম্ব, ক্রেতাদের আস্থা হারানো এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় মোট ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।”

ইএবি সভাপতি সতর্ক করে বলেন, “এই ঘটনায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হতে পারেন। এতে দেশের রপ্তানি খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করতে অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর তদন্ত শুরু করা জরুরি। ভবিষ্যতে যেন কেউ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে না পারে, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

হাতেম আলী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আশুলিয়া, মিরপুর, চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ইএবির অন্যান্য সদস্য এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিদিনের অর্থনীতি/আরটি
Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com