
| মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 243 বার পঠিত

বহুমাত্রিক ভ্যাট হার, জটিল আইন কাঠামো এবং সীমিত ভ্যাট নেট এসব কারণেই কাঙ্ক্ষিত মূসক আদায় ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজস্ব সংগ্রহের ওপর অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভ্যাট ও আয়কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা আমদানি নির্ভর হওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এ চাপ কমাতে আয়কর ও ভ্যাট দুই ক্ষেত্রেই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানো জরুরি।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নেট ছোট হওয়ায় রাজস্ব সংগ্রহে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। টার্নওভার সীমা কমিয়ে ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখে নামানো হলেও নিবন্ধন প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। এবার অন্তত ১ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন জটিল হওয়ায় ২০১২ সালে নতুন আইন করা হলেও সময়ের সঙ্গে আবার জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করতে একাধিক ভ্যাট হারের পরিবর্তে একক হার (‘সিঙ্গেল রেট’) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রক্রিয়া সহজ না হলে অটোমেশনও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় না।
তিনি আরও জানান, ভ্যাট ব্যবসায়ীরা দেন না; দেন ভোক্তারা। তাই পুরো প্রক্রিয়া যান্ত্রিক হলে (অটোমেশন) রাজস্ব আদায় অনেক বাড়বে। জিডিপির বড় অংশ এখনো কর-নেটের বাইরে এ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। টেকসই রাজস্ব নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানেও সংকট তৈরি হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বিবেচনায় এনবিআর ভবিষ্যতে নিজস্ব সফটওয়্যার সাপোর্ট দেবে বলে জানান তিনি। ভ্যাট রিফান্ড অটোমেশন প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে এটি চালু হলে ব্যবসায়ীদের সুবিধা মিলবে।
তিনি আরও বলেন, অটোমেটেড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। এসাইকুডা সিস্টেমের কিছু জটিলতা দূর করলে আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের কাস্টমসে ভিড় কমবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমান শুল্ক কাঠামো রাখা সম্ভব হবে না, তাই ধীরে ধীরে শুল্ক কমানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে কাস্টমস রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিরাপত্তা ও নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দেবে।
ব্যাংকিং খাতের ধাক্কা, করপোরেট ট্যাক্সে কম আদায় এবং ছোট বাজেট উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবুও নভেম্বর শেষে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কর ফাঁকি রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে, এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে লিকেজ কমানোর মাধ্যমে। বৈষম্যহীন কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যিনি বেশি আয় করবেন তিনি বেশি ভ্যাট ও কর দেবেন, আর যাদের আয় নেই তাদের ওপর কোনো বাড়তি চাপ দেওয়া উচিত নয়।

Posted ১:১৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity


