পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বন্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে বন্ড ও সুকুক বাজার সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা
Share

দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পুঁজিবাজারকে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকের মতো বিকল্প বিনিয়োগ খাতকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতকে আরও আধুনিক, স্থিতিশীল ও বহুমুখী করতে ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে তালিকাভুক্তির বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপ সহজীকরণের পাশাপাশি তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবেদন দাখিলের বিধান আরও বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্র সম্প্রসারণে করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অর্থ সংগ্রহে পৌর বন্ড বা মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কাঠামো তৈরি করা হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় প্রস্তাব ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ও সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সরকার আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয় সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের বড় অংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

/এসএ
Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ৭:৪৩ এএম | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com