বন্ধ কারখানা সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গাইডলাইন জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রতিদিনের অর্থনীতি রিপোর্ট   |   বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট

বন্ধ কারখানা সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গাইডলাইন জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
Share

মূলধন সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার কার্যক্রমে ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল (রিভলভিং) প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ও কর্মসংস্থাননির্ভর বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।

‘ক্লোজড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিস সেক্টর ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম’ নামে গঠিত এ তহবিলের মেয়াদ তিন বছর। এটি আবর্তনশীল তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে স্কিমটির অর্থায়ন করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, স্কিমে যুক্ত হতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর নির্ধারিত ফরম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রি-ফাইন্যান্স সুবিধার আবেদন করা যাবে।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন সুবিধা নিয়ে থাকলে নতুন অর্থায়নের আগে তার প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে। একই অর্থায়নের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্কিমের অর্থ যথাযথ ব্যবহারের জন্য একাধিক শর্ত আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থায়ন নিতে ইচ্ছুক প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা অর্থ পাচার, জালিয়াতি, তহবিল অপব্যবহার বা ঋণসংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত নয়।

এ ছাড়া আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা সেবা দেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণপত্র, বিক্রয় ও রাজস্বসংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যবসা পুনরায় চালুর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ব্যাংককে যাচাই করতে হবে। অর্থায়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতি তিন মাস অন্তর সরেজমিনে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি প্রান্তিক শেষে পরের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ঋণ বিতরণ, অর্থের ব্যবহার, আদায় পরিস্থিতি এবং কারখানা পরিদর্শনসংক্রান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

/এসআর
Facebook Comments Box
Share
advertisement

Posted ২:৪৭ পিএম | বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রতিদিনের অর্থনীতি |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

সম্পাদক:
এম এ খালেক
Contact

মাকসুম ম্যানশন (৪র্থ তলা), ১২৭, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা-১০০০

০১৮৮৫৩৮৬৩৩০

E-mail: protidinerarthonity@gmail.com