প্রতিদিনের অর্থনীতি ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে টি+১ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু, বন্ড বাজার সম্প্রসারণ, ডেরিভেটিভস চালু এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়াসহ একগুচ্ছ সংস্কার কার্যক্রমের কথা জানিয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান বলেন, বিশ্বের পরিণত পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের সুযোগ থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোম্পানির শেয়ারেও অস্বাভাবিক লেনদেন হয়, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তি আরও দ্রুত করতে টি+১ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে শেয়ার কেনাবেচার অর্থ ও শেয়ার হস্তান্তরের সময় কমে আসবে এবং বাজারে তারল্য বাড়বে।
বাজার তদারকি আরও কার্যকর করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এতদিন কোনো শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা হলে ডিএসইকে বিএসইসির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। ফলে অনিয়ম চলতে থাকত। এখন থেকে ডিএসই প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। পাশাপাশি সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশের বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) তালিকাভুক্ত বন্ডগুলো মূল বাজারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক পুঁজিবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ভালো কোম্পানি বাছাই বা আর্থিক বিশ্লেষণে দক্ষ নন। তাই আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে দেশে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার বা আর্থিক পরামর্শক সনদ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা পেশাদার পরামর্শ নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন।
ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়টি সম্পূর্ণ ডিএসইর নিজস্ব এখতিয়ার। এ বিষয়ে বিএসইসির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিএসইসি থেকে চাকরি হারানো কর্মীদের বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিজের দায়িত্ব গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাসুদ খান বলেন, অতীতে বিএসইসিতে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় সবাই কোনো না কোনো সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সে কারণে শুরুতে তিনি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে সরকার পুঁজিবাজার সংস্কারে আন্তরিক এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দেওয়ায় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি পরিকল্পনাভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী। বিএসইসিতে যোগ দেওয়ার আগেই প্রায় তিন মাস দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনা করেছেন, যার ভিত্তিতেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
Posted ১১:৩৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রতিদিনের অর্থনীতি | Protidiner Arthonity